Published : 16 Jun 2026, 01:24 AM
লন্ডনে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর এক অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির নেতাকর্মীরা জুলাই অভ্যুত্থানের নেতাকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়েও মারেন।
এনসিপির দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক, সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর যুক্তরাজ্য সফর উপলক্ষে এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ইউকে অ্যালায়েন্স।
সোমবার পূর্ব লন্ডনের হোয়াইচ্যাপেল এলাকার ইস্ট লন্ডন মসজিদের পেছনে মায়েদা ব্যাঙ্কুয়েট হলে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এ ভেন্যুর পাশে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ দেখান আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় অনুষ্ঠানটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও হাসনাত আবদুল্লাহ অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান রাত ৯টার দিকে। কয়েক ডজন পুলিশের পাহারায় দৌড়ে বিকল্প এক দরজা দিয়ে রেস্তোরাঁর ভেতরে ঢোকেন তিনি।
এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি হাসনাত আবদুল্লাহকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করলে এ সংসদ সদস্য দৌড়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। ওই সময় বাইরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্সের ফেইসবুক পাতায় প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, ডায়াসের সামনে দাঁড়ানো হাসনাত একটি ডিম দেখিয়ে বলছেন, “বিভিন্ন প্রান্তের যেসব লীগ আছে, যারা নিজেরা থাকে দৌড়ের উপরে, পালিয়ে থাকে নিজেরা, কিন্তু অন্যদেরকে বলে, ‘পালানোর জায়গা পাবে না’।
“দুনিয়ার সকল প্রান্তের পালিয়ে থাকা এসব লীগদেরকে এই ডিমটা আমি উৎসর্গ করছি। আমার হাতে তো এখন কাঁচা ডিম আছে...এটা কাঁচা থাকবে না সিদ্ধ থাকবে—আসলে আমি জানি না।”
এর আগে দুপুরে পূর্ব লন্ডনের এলেম পার্ক এলাকায় হাসনাত আবদুল্লাহকে ধাওয়া দেওয়ার পাশাপাশি ডিম ছুড়ে মারেন সেখানকার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
জুলাই আন্দোলনের এক সেমিনারে যোগ দিতে বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।
যুক্তরাজ্যে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশি রাজনৈতিক দলগুলোর এমন পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ হয়েছে। তবে একজন সংসদ সদস্যের সভা করা ঘিরে এমন বিক্ষোভের ঘটনা বিরলই বলে জানাচ্ছেন প্রবাসী রাজনীতিকরা।
এক আওয়ামী লীগ নেতার কাছে প্রশ্ন ছিল, হাসনাত আবদুল্লাহ তো সরকারের কেউ নন। তাকে নিয়ে এভাবে বিক্ষোভ কেন?
জবাবে তিনি বলেন, “আমরা তাকে এমপি হিসেবে নয়, একজন সন্ত্রাসী হিসেবে বিবেচনা করছি।”