Published : 17 Jun 2026, 08:40 PM
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় দুপক্ষের সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ আরেক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে।
সবশেষ বুধবার বিকালে মাধবদী থানার চরদিঘলদী ইউনিয়নের জিৎরামপুর গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত কাউছার মিয়া (৩৫) উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের শাহ আলম মিয়ার ছেলে।
মাধবদী থানার ওসি কামাল হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, টেঁটাবিদ্ধ করে কাউছার মিয়াকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। স্রোতে টানে ঘটনাস্থল থেকে আট থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে এসে ভেসে ওঠে মরদেহটি।
তিনি বলেন, পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়ার জন্য মরদেহটি রায়পুরা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা তারাই গ্রহণ করবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের দড়িগাঁও গ্রামে স্থানীয় জবা মেম্বারের পক্ষের লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষে ‘মিস্টার গ্রুপের’ সমর্থক মামুন নামের এক প্রবাসী গুলিতে নিহত হয়।
এ ঘটনার পর থেকে হত্যা মামলার আসামি জবা মেম্বার, তার সহযোগী আলাল মুন্সি ও তাদের পক্ষের লোকজন পলাতক আছেন। এরপর থেকে দফায় দফায় ভাড়া করা লোকজন নিয়ে এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করছিল জবা মেম্বারের লোকজন।
মঙ্গলবার ভোরে স্পিডবোটে ভাড়া করা অস্ত্রধারীদের নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করেন জবা মেম্বার ও তার সমর্থকরা। এ সময় ‘মিস্টার গ্রুপের’ লোকজন তাদের প্রতিহত করতে যায়। সংঘর্ষ হরিপুর ও দড়িগাঁও এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে গুলিবিদ্ধসহ কয়েকজন আহত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংঘর্ষের ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের সোনাকান্দি এলাকার হরজু মিয়ার ছেলে বুলবুল মিয়া এবং বিকালে পূর্বপাড়া এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য ওসমান মিয়ার ছেলে অনিক মিয়া (২২) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।
আরও পড়ুন:
নরসিংদীতে দুপক্ষের সংঘর্ষ: ঢাকা মেডিকেলে আরেকজনের মৃত্যু
নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ, গুলিতে তরুণ নিহত