ভিডিও বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রকাশ : ১৭ জুন, ২০২৬ ০৮:০৪ পিএম

যমুনার ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম বেড়ার নদীপাড়ের মানুষ

যমুনার ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম বেড়ার নদীপাড়ের মানুষ

বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার বেড়া উপজেলার যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে পুরানভারেঙ্গা ইউনিয়নের কল্যাণপুর চর, চর সিংহাসন বক্তারপুর ও নতুনভারেঙ্গা ইউনিয়নের নেওলাইপাড়া এলাকার মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।

ভাঙনের কারণে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র (সাবস্টেশন), মসজিদ, বসতবাড়ি এবং শত শত বিঘা ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ভাঙন কবলিত এলাকার হাজারো মানুষ বর্তমানে চরম উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় যমুনা নদীর ভাঙন দেখা দিলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কল্যাণপুর চর। সেখানে ভাঙন দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ভাঙনের স্থানটি স্থানীয় মসজিদ থেকে প্রায় ২শ’ ফুট এবং বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র (সাবস্টেশন) থেকে প্রায় ৪শ’ মিটার দূরে হলেও স্থাপিত সাবমেরিন ক্যাবল খুঁটি মাত্র ৫০ ফুট দূরে রয়েছে। ক্যাবলটি ভাঙনের কবলে পড়লে চরের হাজারো মানুষ বিদ্যুৎ সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রায় এক মাস আগে শুরু হওয়া এ ভাঙন এখন পুরো এলাকার মানুষের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, চলমান ভাঙনে গত একমাসে প্রায় ২শ’ বিঘা ফসলি জমি ইতিমধ্যে যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে অনেক কৃষক তাদের আবাদি জমি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। একদিকে যেমন মূল্যবান কৃষিজমি হারিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে নদী তীরবর্তী বসতবাড়ি, মসজিদ এবং বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বর্ষার বাকি সময়জুড়ে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। তাই ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আরও পড়ুন

কল্যাণপুর চরের বাসিন্দা মো. তাইজল ইসলাম বলেন, গত এক মাসে যমুনা নদীর ভাঙনে আমার প্রায় ৪ বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর আগেও কয়েক বিঘা জমি ভাঙনের শিকার হয়েছে। এখন চাষাবাদ করার মতো কোনো জমি অবশিষ্ট নেই। পরিবার-পরিজন নিয়ে আমি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বেড়া শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, যমুনা নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকি বিবেচনায় কল্যাণপুর চরসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নদীভাঙন প্রতিরোধে দু’টি প্যাকেজের আওতায় প্রায় ১২ হাজার জিওব্যাগ নিক্ষেপ করা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজন হলে ভাঙনরোধ কার্যক্রম আরও জোরদার করতে অতিরিক্ত প্যাকেজ গ্রহণ এবং জিওব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা করা হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যমুনার ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম বেড়ার নদীপাড়ের মানুষ

দেশের ৪ বিভাগে ভারী বৃষ্টির আভাস

রংপুরের তারাগঞ্জে মাদক সেবন ও বহনের দায়ে এক ব্যক্তির কারাদণ্ড

সিরাজগঞ্জে দুই ধর্ষক গ্রেফতার

এই বাজেট চানাচুর মার্কার মতো, শুনতে ভালো লাগলেও খেলে পেট খারাপ হবে

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে কৃষকের বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড