রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র (নিটোর) এলাকায় আউটসোর্সিং নিয়োগকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের সহকারী পরিচালককে আগ্নেয়াস্ত্রের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৬ মে শনিবার দুপুরের দিকে একদল ব্যক্তি হাসপাতালে এসে সহকারী পরিচালক রাশিদুল আলমের কক্ষে প্রবেশ করে হুমকি-ধামকি দেয় এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছে।
ঘটনার পর সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগারগাঁও এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ‘পিচ্চি রাকিব’ ও ‘কালা রাকিব’ নামে দুই ব্যক্তির আধিপত্য চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই দুইজনকে কেন্দ্র করে এলাকায় নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, প্রভাব বিস্তার ও গ্যাং কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পিচ্চি রাকিবের বাবা হাবিব একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে তৎকালীন পঙ্গু ইউনিটের দায়িত্বে থাকা আজহার মোল্লা ও বারেক তাকে আওয়ামী লীগের ইউনিট থেকে বাদ দেন। এরপর থেকেই তার ছেলে পিচ্চি রাকিব এলাকায় বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অন্যদিকে, কালা রাকিবের বিরুদ্ধেও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও গ্যাং কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, তার বাবা শেরেবাংলা নগর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করেন। সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে কালা রাকিব এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে। গভীর রাত পর্যন্ত গ্যাং সদস্যদের নিয়ে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে আড্ডা ও মহড়া চালায় কালা রাকিব।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এই দুই রাকিবের সহযোগী হিসেবে স্বেচ্ছাসেবক লীগের পাপ্পু নামে এক ব্যক্তি কাজ করছেন। এলাকাবাসীর ভাষ্য, তারা সবাই মিলে হাসপাতালকেন্দ্রিক একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে, যা স্থানীয়ভাবে ‘হাসপাতাল সিন্ডিকেট’ নামে পরিচিত।
এ বিষয়ে অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনান বলেন, ‘একদল লোক হাসপাতালে এসে সহকারী পরিচালক রাশিদুল আলমকে ঘেরাও করে হুমকি-ধামকি দিয়েছে। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়েছে। আমরা আইনি সহায়তা পাচ্ছি এবং পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছে।’
ঘটনার বিষয়ে শের-ই-বাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম মনির বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলার নম্বর ১৮। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
ওসি আরও জানান, আসামিরা হাসপাতালে তাদের অন্তত ৩০ জন লোক নিয়োগ দিতে হবে বলে হুমকি দেয়। আমরা আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি হাসপাতাল এলাকায় আগের তুলনায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছি। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিটোরে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ৩৪১ জনকে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ২০২৪ সাল থেকেই এ নিয়োগ নিয়ে আলোচনা চলছিল। বিশৃঙ্খলাকারীদের অভিযোগ ছিল, নিয়োগে আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি ছিল, অন্তত ৩০ জনকে চাকরি দিতে হবে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো হাসপাতাল এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে হাসপাতালের নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে হাসপাতালের এক স্টাফ জানান, শনিবার যারা এখানে এসেছে তারা সবাই এই এলাকার। তারা ৩০ জনকে আউটসোর্সিং চাকরি দিতে পারলে মিনিমাম ৬০ লাখ টাকা তারা পাবে। প্রতিজন থেকে ২ লাখ করে টাকা নিবে। অনেকের কাজ থেকে আগাম টাকা নিয়ে নিয়েছে, এখন যদি তাদের লোক চাকরি না পায় তাহলে তো তাদের লস। সেজন্য তারা এই কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে। আর এদিকে যে কোম্পানি কাজ পাবে তারা তাদের মতো করে নিয়োগ দিবে, এর থেকে ৩০ জন কম হয়ে গেলে কোম্পানির লস। এই নিয়ে হয়তো সামনে আরো ঝামেলা সৃষ্টি হতে পারে।
কেকে/ এমএস