কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বহলবাড়ীয়া ইউনিয়নের খাঁড়ারা গ্রামের মোকাম্মেলের ছেলে কৃষক ও সৌদি প্রবাসী জহিরুল ইসলাম (৪৭) টিয়া জাতের করলা চাষে লাভবান হয়েছেন। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃষির এক নতুন জোয়ার বইছে। এখানে স্থানীয় কৃষকরা এখন দেশি-বিদেশি ফল-ফলাদি ও উচ্চমূল্যের সবজি চাষে ঝুঁকছেন।
এই পরিবর্তনের অগ্রদূতদের মধ্যে অন্যতম হলেন মিরপুর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ময়নুল ইসলাম রাজীব। তিনি মিরপুর উপজেলার বহলবাড়ীয়া ইউনিয়নের খাঁড়ারা ব্লকে যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় তিন দিনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করেছেন। তেমনি একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা হলেন ২২ বছর ধরে সৌদি প্রবাসী বর্তমানে টিয়া জাতের করলা চাষি জহিরুল ইসলাম। তিনি বিদেশ না গিয়ে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজ উদ্যোগে করলা চাষ করে বদলে দিয়েছেন নিজের ভাগ্য। পাশাপাশি অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন আশপাশের বহু তরুণ কৃষককে।
জহিরুল ইসলাম জানান, এ বছরই প্রথম টিয়া করলার চাষাবাদ শুরু করেন। তার ১৫ কাঠা জমিতে মিরপুর কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এই চাষাবাদ শুরু করেন। তার ১৫ কাঠা জমি প্রস্তুত, সার প্রয়োগ, মাচা নির্মাণ, কীটনাশক ও পরিচর্যা বাবদ প্রাথমিক খরচ হয় প্রায় ৬০ হাজার টাকা।
পরিশ্রমের ফল তিনি পান মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ দিনের মাথায়। এখন তিনি প্রতিদিন প্রায় ৫০ কেজি করলা বিক্রি করে আয় করছেন প্রায় ৩ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে তিনি স্থানীয় পাইকারি ও খুচরা বাজারে প্রায় ১২ হাজার টাকার করলা বিক্রি করেছেন। তিনি ইতোমধ্যে লাভের মুখ দেখেছেন এবং পেয়েছেন আত্মবিশ্বাস।
স্থানীয় তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সৌরভ এগ্রো সায়েন্সের প্রোপ্রাইটর মো. সৌরভ জানান, করলা চাষের এ সফলতা প্রমাণ করেছে—চেষ্টা ও পরিশ্রম থাকলে অসম্ভব কিছুই নয়। জহিরুল ইসলাম আজ শুধু একজন কৃষক নন, তিনি মিরপুর উপজেলার সবুজ বিপ্লবের এক মুখ। তাঁর করলার মাচা যেন নতুন প্রজন্মের জন্য এক পাঠশালা, যেখানে শেখা যায়—মাটিকে ভালোবাসলে মাটিও প্রতিদান দেয় সোনা হয়ে।
মিরপুর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ময়নুল ইসলাম রাজীব জানান, জহিরুল ইসলামের মতো উদ্যমী কৃষকরা এখন এলাকার কৃষিকে এগিয়ে নিচ্ছেন নতুন উচ্চতায়। এই এলাকার মাটি ও আবহাওয়া করলা চাষে বেশ উপযোগী। জহিরুল ইসলাম সেই সুযোগটি সফলভাবে কাজে লাগিয়েছেন। মিরপুরে যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় এ বছর করলাসহ অন্যান্য সবজি চাষের পরিমাণ বেড়েছে। এতে স্থানীয় বাজারে সবজির জোগান বাড়ছে, পাশাপাশি গ্রামীণ তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে।
কেকে/এলএ