মালয়েশিয়ার শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাক পেলেন ড. শাপলা খানম
একজন শিক্ষক বা গবেষকের জন্য একটি মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পাওয়া যেখানে কঠিন প্রতিযোগিতার বিষয়, সেখানে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরাসরি সিনিয়র লেকচারার হিসেবে যোগদানের আমন্ত্রণ—নিঃসন্দেহে এটি এক বিরল সম্মান।
সম্প্রতি এমনই এক অসাধারণ অর্জন করেছেন বাংলাদেশের ফরিদপুরের কৃতী শিক্ষাবিদ ড. শাপলা খানম। বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিংয়ে ৫৮তম স্থানে থাকা ইউনিভার্সিটি অব মালায়া মালয়েশিয়ার শীর্ষ এবং এশিয়ার অন্যতম সেরা গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ পাওয়া ড. শাপলার একাডেমিক দক্ষতা, গবেষণার মান এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর গ্রহণযোগ্যতার শক্ত স্বীকৃতি বহন করে।
ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলা থেকে উঠে এসে এই পর্যায়ে পৌঁছানো সহজ ছিল না। তাঁর জীবনের শুরুতেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তাঁর প্রগতিশীল বাবা, যিনি মেয়ের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানোর সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। মায়ের অকৃত্রিম দোয়া, ত্যাগ এবং পরিবারের সার্বিক সমর্থন—বিশেষ করে ভাইয়ের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতা—এই সাফল্যের পেছনে ছিল দৃঢ় ভিত্তি।
তবে এই গৌরবময় অর্জনের মাঝেও রয়েছে গভীর বেদনার ছায়া। যাঁর সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হওয়ার কথা ছিল, সেই বাবা আজ আর বেঁচে নেই। সম্প্রতি পবিত্র রমজান মাসেই তিনি হারিয়েছেন তাঁর প্রিয় মাকে। জীবনের এই বৈপরীত্য যেন এক অনন্য বাস্তবতা—একদিকে বড় অর্জনের আনন্দ, অন্যদিকে প্রিয়জন হারানোর গভীর শোক। তাঁদের ভালোবাসা ও আদর্শই আজ তাঁর এগিয়ে চলার প্রধান প্রেরণা।
ড. শাপলা খানম ইউনিভার্সিটি অব মালায়া থেকেই মাস্টার্স ও পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন। তাঁর গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও সাইবার সিকিউরিটি। ইতোমধ্যে তিনি একাধিক Q1 মানের আন্তর্জাতিক জার্নালে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন এবং IEEE-UM ও IEEE Women in Engineering (WIE)-এ নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে গবেষণা সহযোগী হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন।
ইউনিভার্সিটি অব মালায়ার মতো বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণ প্রমাণ করে—ড. শাপলা শুধু একজন সফল গবেষক নন, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একজন আস্থাভাজন একাডেমিক ব্যক্তিত্ব।
মধুখালী থেকে বিশ্বের ৫৮তম র্যাংকড বিশ্ববিদ্যালয়—এই অনন্য যাত্রা প্রমাণ করে, সুযোগ, পরিবার ও অদম্য পরিশ্রম থাকলে বাংলাদেশের নারীরাও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম।













কায়সার হামিদ হান্নান