ভারী খাবারের পর শেষ পাতে মিষ্টিমুখ করতে কে না ভালোবাসে! আর সেই মিষ্টি যদি হয় চেনা পায়েস বা ক্ষীরের চেনা স্বাদ ভেঙে একদম ভিন্নধর্মী কিছু, তাহলে তো কথাই নেই। কমলার হালকা টক-মিষ্টি সুবাস আর ঘন ক্ষীরের যুগলবন্দীতে তৈরি ‘কমলালেবুর ক্ষীর’ তেমনই এক জিভে জল আনা ডেজার্ট। এটি যেমন দেখতে আকর্ষণীয়, তেমনি মুখে দিলেই এর স্বাদ লেগে থাকে দীর্ঘক্ষণ। খুব সাধারণ কিছু উপকরণ দিয়ে ঝটপট কীভাবে তৈরি করবেন এই আভিজাত্যপূর্ণ মিষ্টি।
আসুন জেনে নেই এর রেসিপি…
প্রয়োজনীয় উপকরণ
পাকা কমলালেবু: ৩টি (কোয়ার ভেতরের বীজ ও পাতলা খোসা ফেলে শুধু রসালো অংশ নেওয়া)
তরল দুধ: ১ লিটার
কাজু বাদাম কুচি: ২-৩টি
পেস্তা বাদাম কুচি: ২-৩টি
কাঠ বাদাম কুচি: ২-৩টি
চিনি: ৪-৫ টেবিল চামচ (কমলার মিষ্টি বুঝে স্বাদমতো)
কিশমিশ: ৪-৫টি
অরেঞ্জ ফুড কালার: ১-২ ফোঁটা (সুন্দর রঙের জন্য, ইচ্ছা হলে নাও দিতে পারেন)
লবণ: এক চিমটি (মিষ্টির ব্যালেন্স ঠিক রাখতে)
প্রস্তুত প্রণালী
ধাপ ১ (দুধ ঘন করা): প্রথমে একটি গভীর পাত্রে তরল দুধ নিয়ে মাঝারি আঁচে জ্বাল দিতে থাকুন। দুধে চিনি ও এক চিমটি লবণ মিশিয়ে দিন। দুধ জ্বাল দেওয়ার সময় অনবরত নাড়তে হবে, যাতে পাত্রের নিচে বা পাশে সঁড় লেগে বা পুড়ে না যায়।
ধাপ ২ (ক্ষীর ও রঙ তৈরি): দুধ জ্বাল হতে হতে যখন একদম ঘন হয়ে ক্রিমের মতো ক্ষীরে পরিণত হবে, তখন সুন্দর একটি শেড আনার জন্য ১-২ ফোঁটা অরেঞ্জ ফুড কালার মিশিয়ে দিন। এরপর চুলা থেকে নামিয়ে দুধের মিশ্রণটি পুরোপুরি ঠান্ডা হতে দিন।
ধাপ ৩ (কমলা ও ড্রাই ফ্রুটস মেশানো): মনে রাখবেন, গরম দুধে কখনো কমলা মেলাবেন না, এতে দুধ কেটে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ক্ষীর পুরোপুরি ঠান্ডা হয়ে এলে খোসা ও বীজ ছাড়িয়ে রাখা কমলার রসালো কোয়াগুলো ক্ষীরের সাথে আলতো হাতে মিশিয়ে নিন। সাথে কিছুটা বাদাম কুচি ও কিশমিশও দিয়ে দিন।
ধাপ ৪ (ঠান্ডা করা): এবার পুরো মিশ্রণটি সেট হওয়ার জন্য ফ্রিজের নরমাল চেম্বারে অন্তত ৩০ মিনিট রেখে দিন। ঠান্ডা ক্ষীরের স্বাদ দ্বিগুণ হয়ে যায়।
পরিবেশন: ফ্রিজ থেকে বের করে পরিবেশনের চমৎকার পাত্রে ক্ষীরটুকু ঢেলে নিন। উপর থেকে বাকি কাজু, পেস্তা, কাঠ বাদাম কুচি এবং কিশমিশ ছড়িয়ে আকর্ষণীয় করে সাজিয়ে পরিবেশন করুন ঠান্ডা ঠান্ডা কমলালেবুর ক্ষীর। সাধারণ সব উপকরণে তৈরি এই অসাধারণ ডেজার্টটি আপনার যেকোনো ঘরোয়া আয়োজন বা উৎসবে নিয়ে আসবে আভিজাত্যের ছোঁয়া।