ঢাকা: রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। জিজ্ঞাসাবাদে তারা দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করেছেন এবং ব্যক্তিগতভাবে কোনো দায় তাদের নেই।
বুধবার (১৭ জুন) তদন্ত সংস্থা সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। সূত্র জানায়, চলতি সপ্তাহে একাত্তর টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু এবং সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপাকে পৃথকভাবে একদিন করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তারা নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই তারা কাজ করেছেন।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় ৫ আগস্টের আগে ও পরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও ফুটেজও তাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ভিডিওর বিষয়ে মোজাম্মেল বাবু দাবি করেন যে, সেগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
এর আগে গত ৭ জুন ট্রাইব্যুনাল-১ প্রসিকিউশনের আবেদনের পর রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়। একই আদেশে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১০ আগস্ট দিন নির্ধারণ করা হয়।
বর্তমানে এ মামলায় মোট নয়জন গ্রেফতার রয়েছেন। তাদের মধ্যে রুপা ও মোজাম্মেল বাবু ছাড়াও আছেন সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি শাহরিয়ার কবির এবং সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ দেশের চারটি স্থানে মোট ৫৮ জন নিহত হন। তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় একজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।