
শিশু আয়াত হত্যা : আসামি আবীরের মৃত্যুদণ্ড
চট্টগ্রামে শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে হত্যার পর লাশ ছয় টুকরো করার মামলায় আসামি মো: আবীর আলীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসাথে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন।
আজ বুধবার চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস আলোচিত এই মামলার রায় দেন। এসময় আসামি আবীর আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
page-top-ad
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়। বিচারিক কার্যক্রমে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে ৩৩ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।
চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, আসামি আবীর আলী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, সুরতহাল রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, আলামত উদ্ধার এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি পর্যালোচনায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসাথে এক লাখ অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ‘আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত, নিষ্ঠুর, নৃশংস, নির্মম ও সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী ক্রাইম পেট্রোল থেকে উদ্বুদ্ধ হয়েছে।’
পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার বন্দরটিলা এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার মেয়ে আলিনা ইসলাম আয়াত ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ইপিজেড থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে পরিবারের আবেদনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ছায়া তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে উঠে আসে, আয়াতকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিলেন তাদের বাসার ভাড়াটে মো: আবীর আলী। ২৫ নভেম্বর তাকে গ্রেফতারের পর আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন।
পিবিআই সূত্র জানায়, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে আয়াতকে অপহরণ করা হয়েছিল। পরে পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে তাকে হত্যা করা হয়। পরে তার খণ্ডিত লাশ সাগরপাড় ও খালের পাশে ফেলে দেয়া হয়।
তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পিবিআইয়ের তৎকালীন পরিদর্শক মনোজ দে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে মো: আবীর আলী ও তার ১৭ বছর বয়সী এক বন্ধুকে আসামি করা হয়। তিনি কিশোর হওয়ায় আলাদাভাবে শিশু আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।