প্রকাশ: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম (ভিজিট : ৮)

‘সার্কাস ও যাত্রাপালা মানোন্নয়ন কর্মশালা'-এর সমাপ্তি: অশ্লীলতা বর্জন করে সুস্থ সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার প্রত্যয়
বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী সার্কাস ও লোকনাট্যের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ যাত্রাশিল্পকে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পুনরুজ্জীবিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী। আজ রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালা ভবনের সেমিনার কক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত দুই দিনব্যাপী (১৬-১৭ জুন ২০২৬) ‘সার্কাস ও যাত্রাপালা মানোন্নয়ন কর্মশালা’ এবং “বাংলাদেশের সার্কাস: ঐতিহ্য, শিল্পরূপ ও সংকট” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এই ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, আমাদের প্রাচীন ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। আমরা বিশ্ব দরবারে আমাদের মহান ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে চাই এবং সংস্কৃতির বন্ধ্যাত্ব দূর করে মরুভূমিতে ফুল ফোটাতে চাই।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে বলেন, তরুণ ছাত্রসমাজের নেতৃত্বে এ দেশে এক নজিরবিহীন রাষ্ট্রীয় রূপান্তর তথা ‘ট্রান্সফরমেশন’ সাধিত হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই স্বপ্ন-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে এবং এই নতুন বাংলাদেশে সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ অপরিহার্য। যাত্রাশিল্প ও সার্কাসের আধুনিকায়ন ও গুণগত পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, যাত্রা ও সার্কাস এ দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও শক্তিশালী গণমাধ্যম। তবে এর নামে কোনো ধরনের জীবনবিমুখ, সংগ্রামবিমুখ, অশ্লীল কর্মকাণ্ড বা নগ্ন নৃত্য সহ্য করা হবে না। সুস্থ ও রুচিশীল বিনোদন নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় থেকে একটি যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। তিনি আরও ঘোষণা করেন, এখন থেকে যাত্রাদল ও সার্কাসের প্রাথমিক অনুমতি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকেই প্রদান করা হবে, যাতে জেলা প্রশাসন বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানির শিকার হতে না হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় আমরা এক সময়কার সবচেয়ে শক্তিশালী এই সাংস্কৃতিক মাধ্যমটিকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছি। তবে যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে বাচনভঙ্গি, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, প্যান্ডেল ব্যবস্থাপনা এবং বাদ্যযন্ত্র তথা অর্কেস্ট্রায় আধুনিকতার ছোঁয়া আনতে হবে। অনুষ্ঠানে অন্যতম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) জনাব ড. জাহেদ উর রহমান এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব জনাব জুবায়ের বাবু।
সেমিনারে 'বাংলাদেশের সার্কাস: ঐতিহ্য, শিল্পরূপ ও সংকট' শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট গবেষক ড. সাইমন জাকারিয়া। উক্ত প্রবন্ধের ওপর ফলপ্রসূ আলোচনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. ইউসুফ হাসান অর্ক এবং বিশিষ্ট প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা জনাব ঝুমুর আসমা জুঁই। এছাড়া সার্কাস শিল্পের মাঠপর্যায়ের বাস্তব সংকট ও সম্ভাবনা তুলে ধরে বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন দি গ্রেট রওশন সার্কাসের প্রোপাইটর জনাব শেখ আফতাব উদ্দিন এবং বাংলাদেশ সার্কাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জনাব মো: শাহিন মিয়া।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ্ কানিজ মওলা-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালার স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক জনাব শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় শতাধিক যাত্রাদল ও সার্কাস মালিক সমিতির প্রতিনিধি, প্রবীণ কলাকুশলী এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।