শরীয়তপুরে সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া আওয়ামী লীগের এক নেতার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের একাংশ। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে জেলায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় শরীয়তপুর সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের গয়াতলা বাজার এলাকায় এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের একাংশ মিছিলটি বের করে বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। পরে এ মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া আসাদুজ্জামান লিটন মুন্সি বিনোদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে পালং মডেল থানা পুলিশ। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের মিছিলে অংশগ্রহণ এবং সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
পালং মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবীর হোসেন বলেন, মঙ্গলবার সকালে শরীয়তপুর সদর উপজেলার বিনোদপুর বাজারের কান্দি এলাকার নিজ বাড়ি থেকে বিনোদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান লিটন মুন্সিকে আটক করা হয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলে অংশগ্রহণ ও সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
প্রায় ৪০ সেকেন্ডের ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান লিটন মুন্সির মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিয়ে মিছিল করছেন বিএনপির কিছু নেতাকর্মী। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে জোরালো আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
বিএনপির বিনোদপুর ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন সরদার দাবি করেন, এটি কোনো দলীয় কর্মসূচি ছিল না। কিছু ব্যক্তি নিজেদের উদ্যোগে এ মিছিল করেছেন। তিনি বলেন, ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি হারুন সরদার, যুবদল নেতা মাহফুজ সরদার ও বোরহান মোল্লার নেতৃত্বে মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ বিষয়ে যুবদল নেতা মাহফুজ সরদার বলেন, ‘আসাদুজ্জামান লিটন মুন্সি আগে আওয়ামী লীগ করলেও পরে তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তাই আমরা তার মুক্তির দাবি জানিয়েছি। কিন্তু হাইব্রিড বিএনপির একটি অংশ বিষয়টি নিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শাহ আবদুস সালাম বলেন, ‘আমি ফেসবুকে দেখেছি, শরীয়তপুর সদর উপজেলার একটি ইউনিয়নে বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল করেছে। এর বেশি আমি কিছু বলতে পারবো না।’
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর