সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে অপেশাদার আচরণ, সিটি এসবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দুঃখ প্রকাশ
রাজধানীতে কর্মরত সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও শিক্ষাগত তথ্য এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহে কাজ করছে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি)। তবে এসব তথ্য সংগ্রহের সময় দায়িত্বরতদের অপেশাদার আচরণের অভিযোগ পেয়ে বিব্রতবোধ করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন খোদ ঢাকা সিটি এসবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এসবি থেকে গত ১৮ মে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি মতিঝিল, ডেমরা, শ্যামপুর, সূত্রাপুর, পল্টন ও সবুজবাগসহ ঢাকার কয়েকটি এলাকার জোনের ইনচার্জদের কাছে পাঠানো হয়। গত ১৪ মে ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স শাখা থেকে দেওয়া আগের এক নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এ চিঠি পাঠানো হয়।
এসবির ওই চিঠির একটি অনুলিপি এনটিভি অনলাইনের হাতে এসেছে। চিঠিতে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের নিজ নিজ এলাকার সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের বিস্তারিত ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে করে সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে এসবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এনটিভি অনলাইনকে বলেন, এটা আসলে ভুল বোঝাবুঝি। আমাদের অধঃস্তনরা হয়তো পেশাদার আচরণ করতে পারেননি। তাই তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। এজন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, এটা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নাই। সাংবাদিকদের সঙ্গে আমাদের দূরত্ব নেই। মূলত যারা সামনে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির বিভিন্ন প্রোগ্রামে দাওয়াত পাবেন, তাদের জন্যই এই তথ্যগুলো চাওয়া হচ্ছে।
এসবির এ কর্মকর্তা বলেন, বিভিন্ন সময় আমাদেরকে হুট করে বলা হয় বিভিন্ন ব্যক্তিদের তথ্য দিতে। সময় দেয় মাত্র কয়েক ঘণ্টা। কিন্তু এত অল্প সময়ে তথ্যগুলো সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। তাই আমরা আগেই তথ্যগুলো সংগ্রহ করে রাখছি। মূলত, সামনে ঈদ ও পূজা রয়েছে। তখন দেখা গেছে সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের তথ্য চাইবে। তাই আমরা গুরুত্বপূর্ণ ভেবেই তথ্যগুলো চেয়েছি।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, আমাদের হেড অফিস (এসবি) থেকে এই সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়। তবে ইতোমধ্যে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তারা বলেছেন, এভাবে আর তথ্য চাওয়া হবে না। সামনে অফিসিয়ালি চিঠি দিয়ে তথ্য চাওয়া হবে, যাতে কোনো প্রকার আতঙ্ক তৈরি না হয়।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল বুধবার এসবির ঢাকা নগর শাখার এক উপপরিদর্শক (এসআই) তথ্য সংগ্রহের জন্য একাধিক সাংবাদিককে ফোন দেন। এ বিষয়ে তিনি এনটিভি অনলাইনকে বলেন, আমাকে ওপর থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তথ্যগুলো সংগ্রহের। ঠিক কি কারণে তথ্যগুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে আমার জানা নেই। এটা সিনিয়ররা জানেন। আমরা শুধু এইটুকু জানি—কয়েকজন সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মীর তথ্য চাওয়া হয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্মকতাদের পক্ষ থেকে।
ওই এসআই আরও বলেন, আমি সিনিয়র সাংবাদিকের ঠিকানা, ভোটার আইডি কার্ড, বাবা-মায়ের ভোটার আইডি কার্ড, সবশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতা, রাজনৈতিক পরিচিতি, সাংবাদিকতার বাইরে অন্য কোনো পেশা, পারিবারিক বৃত্তান্ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লিংকসহ তথ্যগুলো চেয়েছি। আমাদেরকে এসব তথ্যই চাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক