মোংলায় ডেঙ্গু-চিকনগুনিয়ার প্রজননস্থান ধ্বংসে পরিচ্ছন্নতা অভিযান
ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া রোগের বাহক এডিস মশার প্রজননস্থান ধ্বংসের লক্ষ্যে বাগেরহাটের মোংলায় মাসব্যাপী বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। আজ সোমবার (১৫ জুন) সকালে মোংলা পোর্ট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল হালিম সড়কে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
ব্র্যাক জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য প্রকল্পের উদ্যোগে এবং সার্ভিস বাংলাদেশ, বিডি ক্লিন ও মোংলা পোর্ট পৌরসভার যৌথ সহযোগিতায় এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা)-এর কেন্দ্রীয় নেতা ও পরিবেশযোদ্ধা মো. নূর আলম শেখ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মোংলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শারমিন আক্তার সুমী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নওসীনা আরিফ।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক স্বাস্থ্য প্রকল্পের সনৎ কুমার, জাফর আহমেদ, সিনিয়র সিটিজেন সাহেব আলী মল্লিক, সার্ভিস বাংলাদেশের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মিলন, যুবনেতা সুমন মল্লিক, বিডি ক্লিনের আবু হাসান, পরিবেশকর্মী ডলার মোল্লা, মেহেদী হাসান এবং ছাত্রনেতা সাকিব ও রমজান আলী।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার সুমী বলেন, সাধারণ মানুষ সচেতন না হলে কেবলমাত্র পৌর কর্তৃপক্ষের একার পক্ষে শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। একটি পরিচ্ছন্ন পৌর শহর গড়তে হলে সবাইকে সুনাগরিকের দায়িত্ব পালন করতে হবে। নাগরিকদের সচেতন প্রয়াস ও ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার প্রজননস্থান ধ্বংসের মাধ্যমেই কেবল পরিবেশবান্ধব ক্লিন মোংলা শহর গড়ে তোলা সম্ভব।
সভাপতির বক্তব্যে পরিবেশযোদ্ধা মো. নূর আলম শেখ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব রোধ, পৌরবাসীর সচেতনতা এবং পৌর কর্তৃপক্ষের যথাযথ দায়িত্ব পালনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া রোগমুক্ত মোংলা শহর গঠন করা সম্ভব।
এর আগে স্বাগত বক্তব্যে ব্র্যাকের প্রতিনিধি সনৎ কুমার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অসময়ে বৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির কারণে মশার বংশবিস্তার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। তাই এডিস মশার প্রজননস্থান ধ্বংসে সবাইকে একসঙ্গে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
উদ্বোধনী পর্ব শেষে অতিথিরা কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে নিয়ে সড়কের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা আবর্জনা ও মশার প্রজননস্থল পরিষ্কার করেন।

আবু হোসাইন সুমন, মোংলা