প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে মৌলভীবাজারে উৎসবের আমেজ
দীর্ঘ ২১ বছর পর আগামী বুধবার (১৭ জুন) চায়ের দেশ মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গল সফরে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর এ আগমন উপলক্ষে জেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ। তিনি আগামী বুধবার সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে সিলেটে নেমে সড়ক পথে প্রথমে শ্রীমঙ্গল এবং পরে মৌলভীবাজার সদরে পৌঁছে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণসহ সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেবেন।
জেলার দুটি উপজেলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুষ্ঠানকে ঘিরে মাঠ প্রস্তুত এবং মঞ্চ নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দলীয় নেতাকর্মীরা রাত-দিন পরিশ্রম করে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর সূচি অনুযায়ী বুধবার তিনি বিমানযোগে সিলেট নেমে সড়ক পথে দুপুর ১টায় প্রথমে মৌলভীবাজার জেলার চায়ের জনপদ শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপস্থিত হয়ে সেখানে ১৫২ নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। পরে সেখান থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে সড়ক পথে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পৌঁছে সেখানে আয়োজিত রাজনগর উপজেলার জন্য বরাদ্দ করা ১৫৫ নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণসহ সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেবেন। বেলা সাড়ে ৩টায় স্থানীয় দুসাই রির্সোটে বিশ্রাম ও সেখানে দলীয় নেতাদের রাজনৈতিক সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে তিনি সড়ক পথে সিলেটের উদ্দেশে মৌলভীবাজার ত্যাগ করবেন।
এদিকে জাতীয় নির্বাচনের অল্প কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মৌলভীবাজারের আইনপুর এলাকায় নির্বাচনি জনসভায় বলেছিলেন, আপনারা ধানের শীষে ভোট দিলে এবং বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আসব। এর মাত্র চার মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর আগমন ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপি ও মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন। সরকার প্রধানের আগমন ঘিরে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের পাশাপাশি সবার মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরে মৌলভীবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি একটি মেডিক্যাল কলেজ, শমসেরনগর বিমানবন্দর চালু করা, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর, প্রস্তাবিত মিরপুর শ্রীমঙ্গল হয়ে শেরপুর বাইপাস সড়ক নির্মানসহ পর্যটন এলাকার জন্য বিভিন্ন উন্নয়নের প্রস্তাব তাঁর কাছে তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন দুই উপজেলার নির্বাচিত সংসদ সদস্য।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে তাঁকে বরণ করতে কদিন ধরে জেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ বইছে। জনসভার স্থান পরিবর্তনের পর মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও দ্রুতগতিতে চলছে মাঠ, গেইট, জনসভাস্থল ও মঞ্চ তৈরির কাজ। অল্প সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত প্রস্তুতির জন্য রাতদিন ব্যস্ত সময় পার করছে দলীয় নেতাকর্মী এবং প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধানের আগমনকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল, মিটিং আর শ্লোগানে মুখরিত হচ্ছে জেলার প্রতিটি উপজেলা শহর ও হাট-বাজার। প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধানের আগমনে তাঁকে সরাসরি একনজর দেখতে অপেক্ষার প্রহর গুনছে উৎফুল্ল নেতাকর্মীরা।
মৌলভীবাজারের কৃতী সন্তান সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী মরহুম সাইফুর রহমানের করা উন্নয়নের পর দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও জেলাবাসীর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের নেই কোনো বাস্তবায়ন।
জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র ফয়জুল করিম ময়ুন ও সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন, সদস্য মো. ফখরুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুজিবুর রহমান মজনু, সাধারণ সম্পাদক মারুফ আহমেদ জানান, প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে জেলাবাসী অধীর অপেক্ষায় রয়েছে।
মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান আজ সোমবার বিকেলে জানান, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মৌলভীবাজারে আসছেন। এটি অত্যন্ত আনন্দের এবং আমাদের জন্য একটি অভূতপূর্ব বিষয়। উনার এই আগমন আমাদের প্রত্যাশারও বাইরে ছিল। যাই হোক, তাকে স্বাগত জানানোর জন্য আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি চলছে।
এম নাসের রহমান আরও বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী এবং আমি বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আশা করছি, আগামী অর্থবছর থেকেই সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন শুরু হবে। কারণ আগামী পহেলা জুলাই থেকে নতুন অর্থবছরে মূলত এই সরকারের প্রকৃত উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের সূচনা হবে।
এ জেলার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রধান তিনটি দাবি রয়েছে উল্লেখ করে এম নাসের রহমান আরও বলেন, মৌলভীবাজারে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা, শমসেরনগর বিমানবন্দর চালু করা এবং মৌলভীবাজার কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা। আমি আশাবাদী দাবিগুলো বাস্তবায়িত হবে এবং এগুলো বর্তমানে বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীকে আগামী শুক্রবার শমশেরনগর বিমানবন্দর পরিদর্শনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যে তিনি সশরীরে এসে শমশেরনগর বিমানবন্দরটি পরিদর্শন করবেন।
এম নাসের রহমান আরও বলেন, মেডিকেল কলেজের বিষয়ে সম্পূর্ণ নকশা ও পরিকল্পনা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছি এবং তা তাঁর কাছে হস্তান্তর করেছি। একটি প্রাথমিক প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে এলাকাটি পরিদর্শন করে গেছে এবং খুব শিগগিরই আরও একটি দল পরিদর্শনে আসবে। আমরা আশাবাদী, এই নির্ধারিত স্থানেই অত্যন্ত সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে মেডিকেল কলেজটি স্থাপন করা সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ। শিক্ষামন্ত্রীর কাছেও একটি পরিকল্পনা জমা দেওয়া রয়েছে মৌলভীবাজার কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার জন্য। নতুন একাডেমিক ভবন, আবাসিক হোস্টেল এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ভবন নির্মাণের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।
এম নাসের রহমান আরও বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে এই প্রকল্পগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে, আমরা সেই লক্ষ্যেই আন্তরিকভাবে অগ্রসর হচ্ছি।

এস এম উমেদ আলী, মৌলভীবাজার