প্রেমের টানে নবীনগরে চীনা যুবক
প্রেম মানে না কোনো ভৌগোলিক সীমা। ভালোবাসার মানুষের টানেই সুদূর চীন থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ছুটে এসেছেন এক যুবক। গতকাল সোমবার (১৫ জুন) রাতে ভালোবাসার টানে নবীনগরের নীলনগর এলাকায় প্রেমিকা স্বপ্না আক্তারের মামার বাড়িতে ছুটে আসেন চীনা যুবক জিয়াঐলি।
চীনা যুবকের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়। তাকে একনজর দেখতে শত শত মানুষ ভিড় করে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই প্রেমিক যুগলের ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নবীনগর উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়নের কাঁঠালিয়া গ্রামের মরহুম রিয়াজ উদ্দিনের মেয়ে স্বপ্না আক্তারের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় হয় চীনের সিচুয়ান প্রদেশের লুজোও শহরের লুজিয়ান এলাকার বাসিন্দা জিয়াঐলির। মাত্র তিন মাসের পরিচয়ে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে গভীর প্রেমের সম্পর্ক।
স্বপ্না আক্তার জানান, জিয়াঐলির সঙ্গে তার প্রায় তিন মাস ধরে যোগাযোগ চলছে। গত ২ জুন তিনি বাংলাদেশে এসে ঢাকার উত্তরা এলাকায় অবস্থান নেন। পরে নবীনগরে আসার ইচ্ছে প্রকাশ করলে সোমবার তাকে আলীয়াবাদ গোলচত্বর থেকে নিয়ে আসেন তিনি।
স্বপ্না বলেন, ‘আমি তাকে আমার পরিবারের আর্থিক ও পারিবারিক অবস্থার কথা জানিয়েছি। কিন্তু তিনি বলেছেন, এসব নিয়ে তার কোনো সমস্যা নেই। পরে আমি পরিবারকে বিয়ের বিষয়ে রাজি করিয়েছি।’
স্বপ্নার পরিবারের সদস্যরা জানান, জিয়াঐলি তাকে বিয়ে করতেই বাংলাদেশে এসেছেন। বিয়ের আগে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করবেন। এরপর মুসলিম রীতিতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হবে।
এদিকে বিদেশি যুবককে ঘিরে এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, তিনি সত্যিই চীনা নাগরিক কি না। পরে জিয়াঐলি তার চীনা পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্থানীয়দের দেখালে সন্দেহ দূর হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, প্রেমের টানে বিদেশ থেকে এভাবে প্রত্যন্ত গ্রামে কোনো যুবকের আগমনের ঘটনা তাদের কাছে একেবারেই নতুন। ভাষা, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক দূরত্ব পেরিয়ে দুই ভিন্ন দেশের দুই তরুণ-তরুণীর সম্পর্ককে অনেকেই ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
বর্তমানে জিয়াঐলি স্বপ্নার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। আজ জেলা আদালতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর মুসলিম রীতিতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

কাউছার আলম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া (নবীনগর-বাঞ্ছারামপুর)