ঠাকুরগাঁওয়ে ভয়াবহ লোডশেডিং, তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন
ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলায় কয়েকদিন ধরে তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অনিয়মিত ও ঘন ঘন লোডশেডিং। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সর্বস্তরের মানুষ। বিদ্যুতের এমন ভেলকিবাজিতে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কাজকর্ম এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা।
স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, দিন কিংবা রাত- কোনো নিয়ম ছাড়াই ২৪ ঘণ্টায় ১৫ থেকে ২০ বারেরও বেশি বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ গেলে তা পুনরায় আসার কোনো নির্দিষ্ট সময় থাকছে না।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, তীব্র গরমে বিদ্যুতের এই ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। গরমে ঘরের ভেতর টিকতে না পেরে অনেককেই গাছের নিচে বা খোলা জায়গায় আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।
বিদ্যুতের এই সংকটে রানীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বিশেষ করে ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা নবজাতক ও ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীরা গরমে ছটফট করছেন।
এদিকে সামনে পরীক্ষা থাকায় চরম বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতি বা হারিকেন জ্বালিয়ে পড়াশোনা করতে হচ্ছে তাদের। এক ক্ষুব্ধ অভিভাবক বলেন, এমনিতে প্রচণ্ড গরম, তার ওপর রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কারেন্ট থাকে না। তীব্র গরমে বাচ্চারা রাতে ঘুমাতেও পারছে না, পড়াশোনাও করতে পারছে না। আমরা দ্রুত এর সমাধান চাই।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ফ্রিজে রাখা পচনশীল মালামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিচ্ছে মূল্যবান ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীতে। রানীশংকৈল বাজারের এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দোকানে কাস্টমার আসলেই কারেন্ট চলে যায়। গরমে কেউ দোকানে দাঁড়াতে চায় না। এভাবে ব্যবসা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় গ্রাহকদের দাবি, অতি দ্রুত এই লোডশেডিংয়ের সমাধান করে রানীশংকৈল উপজেলায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় তীব্র গরমে জনস্বাস্থ্য আরও বড় ঝুঁকিতে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে রানীশংকৈল বিদ্যুৎ বিভাগের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) এনামুল হক বলেন, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দের পরিমাণ অনেক কম পাওয়ায় আমরা বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করছি।

এস কে সুজন, ঠাকুরগাঁও (পীরগঞ্জ-রানীশংকৈল)