ন্যাটো জোটের তীব্র সমালোচনায় পুতিন
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মস্কোর রেড স্কয়ারে অনুষ্ঠিত ভিক্টরি ডে প্যারেডে ভাষণ দিয়েছেন। সেখানে তিনি ইউক্রেন যুদ্ধকে ‘ন্যায়সঙ্গত যুদ্ধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং ন্যাটো জোটের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয় স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পুতিন বলেন, ইউক্রেন একটি ‘আগ্রাসী শক্তি’, যাকে পুরো ন্যাটো জোট অস্ত্র ও সহায়তা দিয়ে সমর্থন করছে। খবর বিবিসির।
কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে শত শত সামরিক সদস্যের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে কয়েকজন বিদেশি নেতাও অংশ নেন। তবে গত বছরের তুলনায় এবারের আয়োজন ছিল অনেক ছোট পরিসরে।
ভাষণের শুরুতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েত সেনাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন পুতিন। এরপর ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিজয়ী প্রজন্মের মহান আত্মত্যাগ আজকের বিশেষ সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া সেনাদের অনুপ্রাণিত করছে।
পুতিন আরও বলেন, তারা এমন এক আগ্রাসী শক্তির মোকাবিলা করছে, যাকে পুরো ন্যাটো জোট সমর্থন ও অস্ত্র দিচ্ছে। তারপরও আমাদের বীর সেনারা এগিয়ে যাচ্ছে।
পুতিন রাশিয়ার বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, শিক্ষক, সামরিক সাংবাদিক ও শ্রমজীবী মানুষের ভূমিকাও প্রশংসা করেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, যুদ্ধের কৌশল বদলাতে পারে, কিন্তু দেশের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করে সাধারণ মানুষই।
ভাষণ শেষে কামান থেকে গোলা ছোড়া হয় এবং সামরিক ব্যান্ড সংগীত পরিবেশন করা হয়।
এবারের প্যারেডে প্রায় দুই দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ট্যাংক, ক্ষেপণাস্ত্র বা ভারী সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করা হয়নি। রাশিয়ান কর্মকর্তারা এর কারণ হিসেবে ‘বর্তমান সামরিক পরিস্থিতি’ ও ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেন।
রুশ পার্লামেন্ট সদস্য ইয়েভজেনি পোপভ বলেন, আমাদের ট্যাংকগুলো এখন যুদ্ধে ব্যস্ত। রেড স্কয়ারের চেয়ে যুদ্ধক্ষেত্রেই সেগুলোর বেশি প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো, লাওসের প্রেসিডেন্ট থংলুন সিসৌলিথ এবং মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম উপস্থিত ছিলেন। তবে গত বছরের ৮০তম বার্ষিকীর তুলনায় বিদেশি নেতাদের উপস্থিতি ছিল কম। গত বছর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার (৮ মে) ঘোষণা দেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন তিন দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে।
যদিও যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবুও উভয় দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক