কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মার্কিন আদালতে মামলা
কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট ৯৪ বছর বয়সী রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। ১৯৯৬ সালে যাত্রীবাহী বিমানে গুলি করে নামানোর নির্দেশের দায়ে তার বিরুদ্ধে এই মামলা করা হলো। দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্ত চলার পর অবশেষে এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেওয়া হয়। খবর সিএনএনের।
স্থানীয় সময় বুধবার (২০ মে) মিয়ামির ফ্রিডম টাওয়ারে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এই অভিযোগপত্রটি জনসমক্ষে প্রকাশ করেন। দিনটি কিউবান নির্বাসিত নাগরিকরা ‘কিউবার স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে উদযাপন করে থাকেন। এই মামলায় রাউল কাস্ত্রোর পাশাপাশি কিউবার আরও পাঁচ জন সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ আনা হয়েছে।
রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিকদের হত্যার ষড়যন্ত্র, বিমান ধ্বংস ও ৪ জনকে খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। ১৯৯৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি মিয়ামিভিত্তিক মানবিক সংস্থা ‘ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউর’ তিনটি ছোট বেসামরিক বিমান ফ্লোরিডা প্রণালি দিয়ে ওড়ার সময় কিউবার দুটি ‘মিগ’ যুদ্ধবিমান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে দুটি বিমানকে ধ্বংস করা হয়। সে সময় বিমানগুলো কিউবার বাইরে আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় ছিল। হামলায় চার জন আরোহী নিহত হন, যাদের মধ্যে তিন জনই ছিলেন মার্কিন নাগরিক। তখন কিউবার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন রাহুল কাস্ত্রো।
মার্কিন প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, এই হামলা কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, বরং কাস্ত্রো প্রশাসনের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল। রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াটি আজ থেকে ৩০ বছর আগে ১৯৯০-এর দশকেই শুরু হয়েছিল। ১৯৯২ সালে পানামার স্বৈরশাসক ম্যানুয়েল নরিয়েগাকে মাদক পাচারের দায়ে মার্কিন আদালতে সাজা দেওয়ার পর, মিয়ামির প্রসিকিউটররা কিউবা সরকারের বিরুদ্ধেও তদন্ত জোরদার করেন। তখনকার তদন্তে জানা গিয়েছিল, কলম্বিয়ার ড্রাগ কার্টেলগুলোর চালান নিরাপদে পার করে দিতে কাস্ত্রো সরকার লাখ লাখ ডলার ঘুষ নিয়েছিল। তবে ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে মিয়ামি হেরাল্ড পত্রিকায় খসড়া অভিযোগপত্রটি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় সেই প্রচেষ্টা থমকে যায়। পরবর্তীতে ২০০০ সালে মিয়ামিতে সক্রিয় কিউবার একটি বড় গোয়েন্দা চক্র ‘লা রেদ আউইস্পা’ ধরা পড়লে এই বিমান হামলার পেছনে কিউবান চরদের গভীর ষড়যন্ত্রের কথা উন্মোচিত হয়। দীর্ঘ দিন ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে এই মামলার নথিপত্র চালাচালি হচ্ছিল। অবশেষে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন রাজনৈতিক সদিচ্ছায় এই মামলার ফাইল পুনরুজ্জীবিত করা হলো।
এই মামলার বিষয়ে কিউবার বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এটিকে ‘রাজনৈতিক চাল’ বলে অভিহিত করেছেন। হাভানার দাবি, সেই সময় তাদের আকাশসীমা বারবার লঙ্ঘন করার কারণেই তারা নিজেদের সুরক্ষায় এই ব্যবস্থা নিয়েছিল।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক