ভেনেজুয়েলার আকাশে ফের যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়া
ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার পর এই প্রথমবারের মতো দেশটির রাজধানী কারাকাসের আকাশে সামরিক মহড়া চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। স্থানীয় সময় শনিবার (২৩ মে) এই মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন সেনারা কারাকাসে আকস্মিক হামলা চালিয়ে নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে বন্দি করার পর এটিই প্রথম কোনো প্রকাশ্য সামরিক তৎপরতা।
ভেনেজুয়েলা কর্তৃপক্ষের দাবি, ৩ জানুয়ারির ওই মার্কিন হামলায় অন্তত ১০০ জন নিহত হয়েছিল।
ভেনেজুয়েলার বর্তমান সরকার অবশ্য জানিয়েছে, জরুরি চিকিৎসাসেবা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় নাগরিকদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার (ইভাকুয়েশন) প্রস্তুতি হিসেবে এই মহড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ‘এমভি-২২বি অস্প্রে’ যুদ্ধবিমান কারাকাসে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের কাছে অবতরণ করে ও মার্কিন নৌবাহিনীর বেশ কিছু যুদ্ধজাহাজ ক্যারিবীয় সাগরে ভেনেজুয়েলার জলসীমায় প্রবেশ করে। এই বিষয়ে ভেনেজুয়েলার তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
ভেনেজুয়েলাস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘তিন দফার পরিকল্পনা’ এবং বিশেষ করে ‘ভেনেজুয়েলার স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণে’ ওয়াশিংটন পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আমেরিকা মহাদেশে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম তদারককারী সংস্থা ‘ইউএস সাউদার্ন কমান্ডের‘ কমান্ডার ফ্রান্সিস ডনোভান নিজে একটি অস্প্রে যুদ্ধবিমানে চড়ে কারাকাসে আসেন। সেখানে তিনি ভেনেজুয়েলার বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন।
রাজধানীর এই সামরিক মহড়া সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে গভীর উৎকণ্ঠার জন্ম দিয়েছে। কারাকাসের বাসিন্দা ৫৭ বছর বয়সী প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইভলিন রেবোলেদো বলেন, এই ঘটনা আমাদের প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে রাখছে। একটি বিদেশি রাষ্ট্র, তাও আবার যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশ আমাদের শহরের ওপর দিয়ে যুদ্ধবিমান ওড়াচ্ছে—এটি আমাদের জন্য একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এই মহড়া আমাদের চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে ভেনেজুয়েলার ডেলসি রদ্রিগেজের সরকারকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে। রদ্রিগেজ আগে মাদুরো সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ইতোমধ্যেই ভেনেজুয়েলার বিশাল খনিজ ও তেলের মজুদ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উন্মুক্ত করতে বেশ কিছু নতুন আইন পাস করেছে, যা নিয়ে দেশের ভেতরে তীব্র বিতর্ক চলছে।
এদিকে ভেনেজুয়েলার প্রভাবশালী বিরোধীদলীয় নেত্রী ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মারিয়া করিনা মাচাদো গতকাল শনিবার পানামা সিটিতে শত শত ভেনেজুয়েলান প্রবাসীর উদ্দেশে সমাবেশে বক্তব্য দেন। গত ডিসেম্বর থেকে দীর্ঘ কয়েক মাস আত্মগোপনে থাকার পর তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।
ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া এই নেত্রী প্রবাসীদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের স্বদেশে ফেরার সময় ঘনিয়ে আসছে। সামনে অনেক বড় কিছু আসছে। আমাদের এই আন্দোলন হবে বিশাল ও গণমুখী।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ভেনেজুয়েলার নির্বাচনে নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ উঠেছিল। আন্তর্জাতিক মহল ও বিরোধীদের মতে মারিয়া করিনা মাচাদোই ছিলেন সেই নির্বাচনের প্রকৃত ও বৈধ বিজয়ী।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক