হজ যাত্রীদের সেবায় সংস্কার আনছে সৌদি আরব
আগামী বছর পবিত্র হজে হজযাত্রীদের সেবা সহজতর করা, আবাসনের মান উন্নত করা এবং সামগ্রিক হজ কার্যক্রমের তদারকি জোরদার করার লক্ষ্যে বড় ধরনের সংস্কার আনতে যাচ্ছে সৌদি আরব। এসব আধুনিক সংস্কার বাস্তবায়নসহ আগামী বছরের হজ মৌসুমের সার্বিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু করেছে দেশটি।
মক্কায় হজ ও ওমরাহবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক সমাপনী অনুষ্ঠানে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহবিষয়ক মন্ত্রী তৌফিক আল রাবিয়াহ এই নতুন পরিকল্পনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে কর্মকর্তারা আগামী হজ মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হজবিষয়ক কার্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধনের প্রাথমিক রূপরেখাও উপস্থাপন করেছেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর একটি হচ্ছে সমন্বিত সেবা মডেল প্রবর্তন করা। এর আওতায় একটি একক বা ইউনিফাইড প্যাকেজের অধীন মক্কা ও মদিনার আবাসনের সঙ্গে যাতায়াতের জন্য পরিবহণ এবং খাবারের সেবাকে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, সৌদি আরবে অবস্থানকালে এসব সেবা হজযাত্রীদের ভ্রমণ কর্মসূচির একটি বাধ্যতামূলক অংশ হয়ে উঠবে।
মন্ত্রণালয় হজ প্যাকেজ পুনর্গঠনেরও ঘোষণা দিয়েছে, যেখানে বিদ্যমান অফারগুলো কমিয়ে মাত্র তিনটি শ্রেণিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো হজযাত্রীদের চাহিদা ও পছন্দের সঙ্গে আরও ভালোভাবে সামঞ্জস্য রেখে অধিকতর মানসম্মত সেবা দেওয়া। নতুন এই নিয়মে বর্তমান প্যাকেজগুলোর মধ্যে থাকা ‘প্যাকেজ ডি’ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
কার্যক্রমের মান উন্নত করার লক্ষ্যে আরও একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে সৌদি কর্তৃপক্ষ হজবিষয়ক কার্যালয়গুলোয় কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মীদের জন্য বাধ্যতামূলক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে। হজ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত প্রয়োজনীয় ভিসা ও বিশেষ অনুমতিপত্র (পারমিট) পাওয়ার ক্ষেত্রে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করাকে অন্যতম পূর্বশর্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।
মন্ত্রণালয় ১৪৪৮ হিজরির (২০২৭ সাল) হজ মৌসুমের প্রস্তুতির জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সময়সূচিও নির্ধারণ করে দিয়েছে। চলতি মাসের ৩০ জুন থেকে বিশ্বের সব হজবিষয়ক কার্যালয় এবং আন্তর্জাতিক হজসেবা প্রদানকারীরা মক্কা ও মদিনায় আবাসনের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বুকিং বা সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে পারবেন।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, যেসব সংস্থা পবিত্র স্থানগুলোতে (মিনা-আরাফাহ) তাদের আগের বিদ্যমান অবস্থান বা জায়গা ধরে রাখতে চায়, নতুন সমন্বিত সেবা প্যাকেজে চুক্তি করার সময় তাদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এই বুকিংয়ের চূড়ান্ত সময়সীমা চলতি বছরের ১৩ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এই বার্ষিক ধর্মীয় সমাবেশ ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে সৌদি আরব হজযাত্রীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে, মাঠপর্যায়ের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করতে এবং সেবার মান শক্তিশালী করতে নানামুখী প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং নতুন এই পদক্ষেপগুলো তারই ধারাবাহিক অংশ।

কামাল পারভেজ অভি, মক্কা