জি-৭ সম্মেলনে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক, ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন ট্রাম্প
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৬ জুন) ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-ব্যাঁ শহরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, আমি যা সম্ভব, তাই করব। প্রতিদিন দুই পক্ষের অনেক তরুণ যোদ্ধা প্রাণ হারাচ্ছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, রাশিয়ার উচিত একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানো। আমি বহু যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছি। এই যুদ্ধটিই সবচেয়ে সহজে সমাধান হবে বলে ভেবেছিলাম। খবর আল জাজিরার।
জি-৭ সম্মেলনে অংশ নিতে মঙ্গলবার সকালে জেলেনস্কি বিশ্বের শীর্ষ অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেন। সম্মেলনের ফাঁকে তিনি ট্রাম্প এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গেও আলোচনা করেন।
বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করা এবং রাশিয়াকে যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এগিয়ে নেওয়াই ছিল আলোচনার মূল বিষয়। শান্তি প্রয়োজন।
জেলেনস্কি জানান, জি-৭ নেতাদের কাছ থেকে ইউক্রেন গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আরও বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের লাইসেন্স, শীতকালীন সহায়তা প্যাকেজ এবং রাশিয়ার ওপর আরও চাপ বৃদ্ধির উদ্যোগ।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আলোচনায় যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে সেগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। রাশিয়াকে বুঝতে হবে, এই যুদ্ধ কখনোই স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে মেনে নেওয়া হবে না।
ইউরোপীয় নেতারাও বৈঠক নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেন, ইউক্রেনের জন্য পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। ২০২৬ সালের বাস্তবতা ২০২৫ সালের তুলনায় ভিন্ন। ইউক্রেন সাহসিকতার সঙ্গে ফ্রন্টলাইন ধরে রেখেছে, আর রাশিয়ার ক্লান্তি এখন স্পষ্ট। এ সময় ইউক্রেনকে আরও শক্তভাবে সমর্থন দেওয়ার।
জি-৭ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি এবং হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা হয়। নেতারা দ্রুত হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং বিকল্প জ্বালানি পরিবহন রুট খুঁজে বের করার বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
সম্মেলনের আয়োজক ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, আমাদের অগ্রাধিকার হলো একটি শক্তিশালী ও কার্যকর চুক্তি চূড়ান্ত করা।
ম্যাক্রোঁ জানান, ফ্রান্স ও তার পশ্চিমা মিত্ররা শান্তিপূর্ণভাবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী শুক্রবার জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে এবং একই দিনে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া হবে।
চুক্তির আওতায় ৬০ দিনের একটি আলোচনার সময়সীমা থাকবে, যেখানে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।
ট্রাম্পের মতে, ইরানের সঙ্গে পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনা আরও সহজ হবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক