বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ‘রহস্যময় যন্ত্র’ আটকা
বরগুনা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় জেলের জালে লাল ও হলুদ রঙের একটি যন্ত্র আটকা পড়েছে। পরে জেলেরা যন্ত্রটিকে ‘মিসাইল’ ভেবে বরগুনার পাথরঘাটা নিয়ে এসেছেন। তবে এটি আসলে কী, কোথা থেকে এসেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জেলেরা জানান, রবিবার দিবাগত রাতে সাগরে মাছ ধরতে যান তারা। সোমবার (১ জনু) সকালে গভীর সাগরে মাছ ধরার সময় তাদের জালে যন্ত্রটি আটকা পড়ে। পরে সেটি তীরে নিয়ে আসা হলে উৎসুক মানুষ ভিড় জমায়। যন্ত্রটির ভেতর বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস, সেন্সর, অ্যান্টেনা ও নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের মতো অংশ দেখা গেছে।
তাদের মতে, যন্ত্রটি কোনো গবেষণা প্রতিষ্ঠানের হারিয়ে যাওয়া সামুদ্রিক ডিভাইস হতে পারে, আবার কোনো দেশের সমুদ্র পর্যবেক্ষণ প্রকল্পের অংশও হতে পারে। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যন্ত্রটির ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। কেউ এটিকে গুপ্তচর ড্রোন বলছেন, আবার কেউ গবেষণার কাজে ব্যবহৃত সামুদ্রিক রোবট বলে ধারণা করছেন।
পাথরঘাটার সিনিয়র সাংবাদিক নাহিদ হোসেন ইমাম বলেন, “বঙ্গোপসাগরে এমন অজ্ঞাত প্রযুক্তিগত যন্ত্রের উপস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা দরকার। কারণ এটি শুধু কৌতূহলের বিষয় নয়, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বহন করতে পারে।”
বাংলাদেশ মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, “নিরাপত্তাজনিত কারণে আমরা এই যন্ত্র উদ্ধারকারী জেলেদের নাম পরিচয় গোপন রেখেছি। তবে, স্থানীয় প্রশাসনকে সকল তথ্য উপাত্ত দেওয়া হয়েছে।”
পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপস পাল বলেন, “জেলেদের জালে আটকে উদ্ধার হওয়া যন্ত্রের বিষয়টি শুনেছি। পুলিশ নিরাপদে রেখেছেন যন্ত্রটি। প্রাথমিকভাবে তারা যন্ত্রটি সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করছেন। এরপর অভিজ্ঞ দল সরেজমিনে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।”
ঢাকা/ইমরান/রাজীব