ঢাকা     বুধবার   ১৭ জুন ২০২৬ ||  আষাঢ় ৩ ১৪৩৩ || ১ মহররম ১৪৪৮ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

নির্দেশনা অমান্য, যাত্রীসহ ফেরিতে উঠছে বাস

জাহিদুল হক চন্দন, মানিকগঞ্জ  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:০৯, ৩ জুন ২০২৬   আপডেট: ১৪:২৯, ৩ জুন ২০২৬
নির্দেশনা অমান্য, যাত্রীসহ ফেরিতে উঠছে বাস

পাটুরিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় থাকা বাস ও ট্রাক।

ফেরিতে ওঠা-নামার সময় বাস থেকে যাত্রীদের নামানো বাধ্যতামূলক করা হলেও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে সেই নির্দেশনা কার্যত উপেক্ষিত। সম্প্রতি দৌলতদিয়ায় বাসডুবির ঘটনায় ২৬ জনের প্রাণহানির পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা জোরদারের ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে আগের চিত্রের তেমন পরিবর্তন হয়নি। যাত্রীসহ বাস পারাপারের প্রবণতা অব্যাহত থাকায় নতুন করে দুর্ঘটনার শঙ্কা বাড়ছে।

আরো পড়ুন:

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয় জানায়, দেশের অন্যতম ব্যস্ততম এই নৌরুট দিয়ে প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে তিন হাজার যানবাহন পারাপার হয়। এর মধ্যে প্রায় ৭০০ থেকে এক হাজার বাস রয়েছে। বর্তমানে ১৭টি ফেরি দিয়ে এসব যানবাহন পরিবহন করা হচ্ছে।

গত ২৫ মার্চ রাজবাড়ির দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে ডুবে যায়। ওই ঘটনায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়, যা সারাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। এরপর গত ২৪ মে নতুন নির্দেশনা জারি করে বিআইডব্লিউটিসি, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়, ফেরিতে বাস ওঠা ও নামার আগে সব যাত্রীকে গাড়ি থেকে নামাতে হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পাটুরিয়ার একাধিক ঘাটে নির্দেশনাটি মানার ক্ষেত্রে শিথিলতা রয়েছে। অধিকাংশ বাসই যাত্রীসহ ফেরিতে উঠছে। কিছু ক্ষেত্রে চালক বা সহকারীরা যাত্রীদের নামতে বললেও অনেকেই তা উপেক্ষা করছেন। ঘাটে সতর্কবার্তা দেওয়া সাইনবোর্ড থাকলেও বাস্তবায়নে তেমন কঠোরতা দেখা যায়নি। এছাড়া নিয়ম না মানলে শাস্তির কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেই। ঘাট এলাকায় তদারকির অভাব স্পষ্ট। যাত্রীদের সচেতন করার উদ্যোগও সীমিত পর্যায়ে রয়েছে। 

ফেরির পন্টুন বা রেলিংয়ে বসা কিংবা ঝুঁকিপূর্ণভাবে দাঁড়ানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। সামগ্রিকভাবে কোথাও শতভাগ নিয়ম কার্যকর হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এসবি লাইনের বাসের কর্মী কালাম মিয়া বলেন, “একটি বাসে অনেক যাত্রী থাকে। তাদের সবাইকে নামানো সহজ নয়। আমরা বললেও অনেকে নামতে চান না। ফলে বাস্তবে নিয়ম বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ে।”

কুষ্টিয়াগামী যাত্রী মরিয়স বেগম বলেন, “এ ধরনের কোনো নির্দেশনার কথা আগে জানতাম না। ঘাটে এসে কেউ স্পষ্টভাবে জানায়নি। প্রচার কম থাকায় যাত্রীরা বিষয়টি বুঝতেই পারছেন না।”

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি এবিএম সামসুন্নবী তুলিপ বলেন, “নির্দেশনা থাকলেই হবে না, সেটি বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারি দরকার। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে এবং নিয়ম ভাঙলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতেও বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যাবে।”

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সালাম হোসেন বলেন, “নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি। নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে, সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্টপ গেটে বাস থামিয়ে যাত্রী নামানোর বিষয়টিও নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।”

ঢাকা/চন্দন/মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়