ঢাকা     বুধবার   ১৭ জুন ২০২৬ ||  আষাঢ় ৩ ১৪৩৩ || ১ মহররম ১৪৪৮ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

অবিক্রিত পশু নিয়ে বিপাকে খামারিরা, ফেরত নেওয়ার প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৫১, ২৭ মে ২০২৬   আপডেট: ১৮:৩০, ২৯ মে ২০২৬
অবিক্রিত পশু নিয়ে বিপাকে খামারিরা, ফেরত নেওয়ার প্রস্তুতি

ছবি: রাইজিংবিডি

রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল আজহা। কিন্তু ঈদের আগের রাতেও রাজধানীর বিভিন্ন পশুর হাটে বিপাকে পড়েছেন খামারি ও ব্যাপারিরা। প্রত্যাশিত দামে গরু বিক্রি না হওয়ায় অনেকে হতাশ হয়ে পড়েছেন। আবার কেউ কেউ অবিক্রিত গরু ফেরত নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আরো পড়ুন:

বুধবার (২৭ মে) রাত ৯টার দিকে রাজধানীর কালশী ও বিকেলে তেজগাঁও গরুর হাট ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

কালশী গরুর হাটে সিরাজগঞ্জ থেকে আসা ব্যাপারি আব্দুর রশিদ জানান, তিনি ১৬টি গরু এনেছিলেন। এর মধ্যে এখনো ৬টি বিক্রি হয়নি।”

তিনি বলেন, “গরুর দাম হঠাৎ কমে গেছে। এখন যে দাম বলছে, তাতে বিক্রি করলে লোকসান হবে। না বিক্রি হলে ফেরত নিয়ে যেতে হবে।”

রাজশাহী থেকে আসা খামার মালিক রাজু রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “৪০টি গরু এনেছিলাম। এখনো ৯টি অবিক্রিত রয়েছে।” 

তিনি বলেন, “যে দামে আশা করেছিলাম, সেই দাম নেই। বিক্রি না হলে বাড়ি নিয়ে যেতে হবে।”

মানিকগঞ্জের হোসেন আলী জানান, তিনি দুটি গরু এনেছিলেন। একটি গরুর দাম আগে ৭৫ হাজার টাকা বলা হলেও এখন ৬০ হাজার টাকা পেলেই বিক্রি করে দেবেন। তিনি বলেন, “আর বসে থাকার সুযোগ নেই।”

রাজবাড়ী থেকে আসা মো. মুন্নু শেখ জানান, তিনি ১৬টি গরু এনেছিলেন। এখনো তিনটি বিক্রি হয়নি।

তিনি বলেন, “একটা গরুর দাম ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা আশা করেছিলাম। এখন ১ লাখ টাকা বলছে। সাত মণ ওজনের গরু। মনে হচ্ছে বাড়ি নিয়ে গিয়ে জবাই করতে হবে।”

একই চিত্র দেখা গেছে তেজগাঁও গরুর হাটেও। জামালপুর থেকে আসা সুরাব আলী বলেন, “১৮টি গরু এনেছিলান। এখনো তিনটি বিক্রি হয়নি। যে দাম বলছে, তাতে অনেক লস হবে।”

শেরপুরের মোতালেব জানান, তিনি ৯টি গরু এনে মাত্র দুটি বিক্রি করতে পেরেছেন। তিনি বলেন, “প্রতি গরুতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা কম দাম বলছে। গ্রামের মানুষের কাছ থেকে নগদ টাকায় গরু কিনেছি। বিক্রি শেষে গিয়ে টাকা পরিশোধ করতে হবে।”

তিনি আরো বলেন, “একটি গরু ১ লাখ ১৭ হাজার টাকায় কিনেছিলাম, এখন ১ লাখ ১০ হাজার টাকা বলছে। আর ৭৫ হাজার টাকার গরু ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা দাম বলছে। এভাবে বিক্রি করলে বড় লোকসান হবে।”

দিনাজপুর থেকে আসা জুনায়েদ বলেন, “১০টি গরু এনেছিলাম, কিন্তু এখন পর্যন্ত মাত্র একটি বিক্রি হয়েছে। দাম অনেক কম।”

ইসলামপুরের রহমান জানান, তিনি ১৫টি গরু এনেছিলেন। এর মধ্যে ১১টি বিক্রি হয়েছে। 

তিনি বলেন, “একটি গরুতেই ৫০ হাজার টাকা লস হয়েছে। বৃষ্টিতে ভিজে গরু অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।”

সিরাজগঞ্জ থেকে আসা আরেক ব্যাপারি বলেন, “আজ ১৩টি গরু নিয়ে এসেছি। কিন্তু যে দামে কিনেছি, ক্রেতারা তার অর্ধেক দাম বলছে।”

ঢাকা/নজরুল/সাইফ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়