Published : 17 Jun 2026, 05:29 PM
টস জিতে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় বললেন, উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য খুব ভালো এবং বড় স্কোর গড়তে চান তারা। আদতে দেখা গেল, উইকেট কিছুটা চ্যালেঞ্জিং এবং সেই চ্যালেঞ্জে মুখ থুবড়ে পড়ল বাংলাদেশের ব্যাটিং। রান তাড়ায় অস্ট্রেলিয়ার জয়টা খুব দাপুটে হয়নি, তবে লক্ষ্য বড় ছিল না বলে খুব বিপাকেও পড়তে হয়নি তাদের।
প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে ৪ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে গিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া।
চট্টগ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লা. লে. মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট বরাবরই ব্যাটিং সহায়ক হলেও এই ম্যাচের চিত্র ছিল একটু ভিন্ন। উইকেট ছিল শুষ্ক, বাউন্স ছিল খানিকটা অসম, টার্ন ও গ্রিপ মিলেছে কিছু। এসবের সঙ্গে যোগ হয় বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের এলোমেলো ব্যাটিং। তিন অস্ট্রেলিয়ান স্পিনারকে সামলাতে পারেনি তারা।
বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয় ১৩১ রানে। এই স্কোরও সম্ভব হয় শেষ জুটির সৌজন্যে। উদ্বোধনী জুটির ২৬ রানের পর শেষ জুটির ২৩ রানই দলের সর্বোচ্চ। অস্ট্রেলিয়া জিতে যায় ১০ বল বাকি রেখে।
অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ লেগ স্পিনার অ্যাডাম জ্যাম্পা ও অভিষিক্ত বাঁহাতি স্পিনার জোয়েল ডেভিস উইকে নেন তিনটি করে। এমনিতে অনিয়মিত বোলার হলেও এই সফরে কার্যকর অফ স্পিনার হয়ে ওঠা ম্যাট রেনশর শিকার দুটি।
নিয়মিত অধিনায়ক লিটন কুমার দাস চোটের কারণে খেলতে না পারায় বাংলাদেশের নেতৃত্বে অভিষেক হয় হৃদয়ের।
ম্যাচের প্রথম দুই ওভারে তিন বাউন্ডারিতে ভালো কিছুরই আভাস দিয়েছিলেন তানজিদ হাসান ও সাইফ হাসান। তবে তৃতীয় ওভারে স্পেন্সার জনসনের বলে শর্ট কাভারে ক্যাচ দেন তানজিদ (৯ বলে ১০)।
অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক এরপর কিছুটা চমকে দেন পাওয়ার প্লের ভেতর রেনশকে আক্রমণে এনে। এই সফরে বোলার হিসেবে নিজেকে নতুনভাবে মেলে ধরা স্পিনার সাফল্য পেয়ে যান আবার। তেড়েফুঁড়ে মেরে উইকেট হারান সাইফ (১৪ বলে ১০)।
হৃদয় ক্রিজে গিয়ে প্রথম বলেই রেনশকে ছক্কায় উড়িয়ে দেন স্লগ সুইপে। কিন্তু জ্যাম্পাকেও স্লগ করার চেষ্টায় বোল্ড হয়ে যান তিনি (৫ বলে ৮)।
জ্যাম্পা পরের ওভারে উইকেট পেয়ে যান আরেকটি। লিটনের চোটে দলে শেষ মুহূর্তে দলে যোগ দেওয়া সৌম্য সরকারের অস্বস্তিময় ইনিংস শেষ হয় নিখিল চৌধুরির দারুণ ক্যাচে।
অভিষিক্ত অলরাউন্ডার নিখিল পরে উইকেটের দেখা পেয়ে যান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের দ্বিতীয় ওভারে। তবে তার আগেই বল হাতে শুরুটা স্বপ্নের মতো হয় জোয়েল ডেভিসের।
অভিষিক্ত বাঁহাতি স্পিনার উইকেটের স্বাদ পান আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় বলেই। সীমানায় ধরা পড়েন পারভেজ হোসেন ইমন (১২ বলে ১০)। নিজের ৫০তম টি-টোয়েন্টিতে রেশনকে উইকেট দিয়ে ফেরেন শামীম (৪ বলে ১)।

অভিষেকে একটি ছক্কা মারার পর আরেকটির চেষ্টায় ডেভিসের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন আব্দুল গাফফার সাকলাইন (১০ বলে ১০)। নিখিলকে ছক্কা মারার পর জ্যাম্পাকে তৃতীয় উইকেট শরিফুল ইসলাম (৭ বলে ৭)।
১০৮ রানে ৯ উইকেট হারানো শেষ জুটিতে কিছু রান এনে দেন শেখ মেহেদি হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমান। ন্যাথান এলিসকে ছক্কায় ওড়ান মুস্তাফিজ, ডেভিসকে টানা তিনটি বাউন্ডারি মারেন শেখ মেহেদি। ওই ওভারেই শেষ হয় ইনিংস।
শেখ মেহেদি অপরাজিত থাকেন ২২ বলে ২৯ রানে।
অস্ট্রেলিয়ার রান তাড়ার শুরুটা খুব ভালো হয়নি। শরিফুলকে রিভার্স র্যাম্প খেলতে গিয়ে তৃতীয় ওভারে উইকেট হারান জশ ইংলিস (৫)।
কুপার কনোলি অবশ্য ক্রিজে গিয়েই পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন। দুটি চার ও একটি ছক্কা মারেন তিনি শরিফুলের ওই ওভারেই।
বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি অধিনায়ক মিচেল মার্শ (১৩)। তবে কনোলি ও টিম ডেভিড এগিয়ে নেন দলকে। ২৮ বলে ৪০ রান আসে এই জুটিতে।
ঝড়ো ব্যাটিংয়ের পর সাকলাইনকে ছক্কার চেষ্টায় সীমানায় ধরা পড়েন কনোলি (২৭ বলে ৪৭)। দুই ছক্কায় ১৬ বলে ২০ করে আউট হন ডেভিড।
অভিষেকে কিছুটা সম্ভাবনার ঝিলিক দেখিয়ে নিখিল (১৩ বলে ১৮) আউট হন বিগ ব্যাশ সতীর্থ রিশাদ হোসেনের বলে। মন্থর উইকেটে ভোগান্তির পর জয়ের কাছে গিয়ে সাকলাইনের শিকার হন রেনশ (২৮ বলে ১৮)। তবে সত্যিকার অর্থে ততটা চাপে পড়েনি অস্ট্রেলিয়া।
অভিষেকে কিছুটা খরুচে হলেও দুটি উইকেট নিতে পারেন সাকলাই।
সিরিজের পরের ম্যাচ একই মাঠে শুক্রবার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ১৯ ওভার ১৩১ (সাইফ ২০, তানজিদ ১০, সৌম্য ১৭, হৃদয় ৮, পারভেজ ১০, সাকলাইন ১০, শামীম ১, শেখ মেহেদি ২৯*, রিশাদ ৩, শরিফুল ৭, মুস্তাফিজ ৭; জনসন ২-০-১০-১, বার্টলেট ২-০-১৯-০, এলিস ৩-০-২২-০, রেনশ ৩-০-২৬-২, জ্যাম্পা ৪-০-১৮-৩, ডেভিস ৩-০-১৭-৩, নিখিল ২-০-১৪-১)।
অস্ট্রেলিয়া: ১৮.২ ওভারে ১৩৩/৬ (মার্শ ১৩, ইংলিস ৫, কনোলি ৪৭, ডেভিড ২০, রেনশ ১৮, নিখিল ১৮, ডেভিস শরিফুল ৩-০-২২-১, মুস্তাফিজ ৩-০-১৬-১, শেখ মেহেদি ৪-০-২৯-১, রিশাদ ৪-০-২৬-১, সাকলাইন ৩.২-০-৩২-০, সাইফ ১-০-৭-০)
ফল: অস্ট্রেলিয়া ৪ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে অস্ট্রেলিয়া ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে।
ম্যান অব দা ম্যাচ: অ্যাডাম জ্যাম্পা।