Published : 16 Apr 2026, 05:10 PM
বায়ুদূষণের অভিযোগে ইলন মাস্কের এআই কোম্পানি এক্সএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রাচীন ও প্রভাবশালী নাগরিক অধিকার সংগঠন এনএএসিপি।
তাদের দাবি, কোনো অনুমতি ছাড়াই প্রাকৃতিক গ্যাসচালিত টারবাইন ব্যবহার করে কোম্পানিটি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে।
মঙ্গলবার এ মামলা করেছে সংগঠনটি। অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মেমফিস ও এর আশপাশের এলাকায় ডেটা সেন্টার চালানোর জন্য প্রাকৃতিক গ্যাসচালিত টারবাইন ব্যবহার করে কোম্পানিটি মার্কিন ‘ক্লিন এয়ার অ্যাক্ট’ লঙ্ঘন করেছে।
মিসিসিপির ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে দায়ের করা এ মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের অগাস্ট থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এক্সএআই ও তাদের সহযোগী কোম্পানি ‘এমজেডএক্স টেক এলএলসি’ মিসিসিপির সাউথহ্যাভেনে ২৭টি গ্যাস টারবাইন স্থাপন ও পরিচালনা করেছে। তারা ‘কোনো প্রকার বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ পারমিট এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করেই কাজটি করেছে’।
এসব টারবাইন থেকে ধোঁয়াশা তৈরিকারী দূষক ও ক্ষুদ্র কণা নির্গত হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং দুর্গন্ধসহ অন্যান্য সমস্যার তৈরি করছে।
এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার ও স্থগিতাদেশ চাইছে এনএএসিপি, যাতে তারা ‘প্রয়োজনীয় পারমিট না পাওয়া পর্যন্ত কোলোসাস গ্যাস প্ল্যান্টের কার্যক্রম বন্ধ রাখে; প্রয়োজনীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং আইন লঙ্ঘনের প্রতিটি দিনের জন্য জরিমানা দেয়’।
এনএএসিপি’র পরিবেশ ও জলবায়ু ন্যায়বিচার বিষয়ক পরিচালক আব্রে কনার বলেছেন, “আমাদের নির্মল বাতাস পাওয়ার অধিকার নিয়ে কোনো আপস হতে পারে না, বিশেষ করে যখন বিভিন্ন কোম্পানি প্রমাণ করছে, মানুষের চেয়ে কাজের গতিই তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”
এ বিষয়ে সিএনবিসির মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি এক্সএআই।
এ বছর মাস্কের মহাকাশ কোম্পানি স্পেসএক্সের সঙ্গে একীভূত হয়েছে এক্সএআই। কয়েক মাস ধরে এক্সএআই মিসিসিপির সাউথহ্যাভেনে নিজেদের স্থাপনায় প্রাকৃতিক গ্যাসচালিত বিভিন্ন টারবাইন ব্যবহার করছে।
কোম্পানিটির দাবি, এগুলো কেবল অস্থায়ীভাবে ব্যবহারের জন্য ছিল বলে কোনো ফেডারেল পারমিটের প্রয়োজন পড়েনি। কোম্পানিটি মিসিসিপি অঙ্গরাজ্য সীমানার ঠিক পাশেই মেমফিসে ‘কলোসাস ১’ ও ‘কলোসাস ২’ নামে দুটি ডেটা সেন্টার পরিচালনা করছে।
এ ছাড়া তারা সাউথহ্যাভেনে ‘ম্যাক্রোহার্ডর’ নামে আরও একটি ডেটা সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা করছে। এখানে স্থায়ী এক বিদ্যুৎকেন্দ্রও নির্মাণ করছে তারা, যেখানে বিভিন্ন ডেটা সেন্টারে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ৪১টি প্রাকৃতিক গ্যাসচালিত টারবাইন ব্যবহৃত হবে।
মামলার তথ্য অনুসারে, এক্সএআইয়ের বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছাকাছি দশ হাজারেরও বেশি মানুষ বসবাস, কাজ ও পড়াশোনা করেন। এ ছাড়া বৃহত্তর মেমফিস এলাকায় আরও লাখ লাখ মানুষ রয়েছেন।
মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে, ‘এই জনসংখ্যার বড় একটি অংশ কৃষ্ণাঙ্গ, যা দেশের সামগ্রিক জনসংখ্যার অনুপাতে বেশি’।
এর পাশাপাশি, এনএএসিপি মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে আবেদন জানিয়েছে, যেন মার্চে এক্সএআইকে দেওয়া পারমিটটি বাতিল করা হয়। ওই পারমিটটি মাস্কের কোম্পানিকে সাউথহ্যাভেনে ৪১টি স্থায়ী টারবাইনসহ বড় এক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির অনুমতি দিয়েছিল।
এক্সএআইয়ের এ সম্প্রসারণের জন্য বৃহত্তর মেমফিস এলাকার ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি মাস্ক। বর্তমানে রমরমা এআই বাজারে ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক ও গুগলের মতো বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে তিনি এই এলাকাকে নিজের কোম্পানির মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করছেন।
এর আগে, ইইউ কমিশন ও যুক্তরাজ্যের অনলাইন সুরক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ অন্যান্য সংস্থার তদন্তের মুখে পড়েছিল কোম্পানিটি। ওই সময় কোম্পানিটির তৈরি গ্রক ইমেজ জেনারেটর ও চ্যাটবটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ছবি ব্যবহার করে ডিপফেইক এবং এআই পর্নোগ্রাফি তৈরি ও শেয়ারের সুযোগ তৈরি হয়েছিল।
সেই বিতর্কের মধ্যেই, ফেব্রুয়ারিতে ১.২৫ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যে এক্সএআইকে অধিগ্রহণ করে স্পেসএক্স। আগামী মাসগুলোতে কোম্পানিটির রেকর্ড পরিমাণ শেয়ার বা আইপিও বাজারে ছাড়ার কথা রয়েছে।
এ মামলায় এনএএসিপি’র পক্ষে লড়ছে ‘আর্থজাস্টিস’ ও ‘সাউদার্ন এনভায়রনমেন্টাল ল সেন্টার’।