Published : 16 Jun 2026, 01:37 PM
সুপারসনিক বা শব্দের চেয়ে দ্রুতগতির প্লেন চালনার ক্ষেত্রে নুতন রেকর্ড গড়েছে নাসার এক পরীক্ষামূলক প্লেন। জনবসতিপূর্ণ এলাকার ওপর দিয়ে প্রথম পরীক্ষামূলক ও শব্দহীন ফ্লাইটের ঠিক আগমুহূর্তে প্লেনটি নিজের কাঙ্ক্ষিত গতি ও উচ্চতার লক্ষ্যমাত্রায় সফলভাবে পৌঁছেছে।
সুপারসুনক প্লেনের প্রচলিত তীব্র শব্দ বা সনিক বুম ছাড়াই শব্দের প্রাচীর ভাঙতে পারার এ সাফল্যকে প্লেন চালনার ইতিহাসে এক বৈপ্লবিক ধাপ হিসেবে দেখছে নাসা।
এ মাসের শুরুতে প্রথম সফল ফ্লাইটের পর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লোকালয়ের ওপর দিয়ে পরিকল্পিত পরীক্ষামূলক যাত্রার জন্য যে গতি ও উচ্চতা প্রয়োজন তা অনায়াসেই স্পর্শ করেছে নাসার ‘এক্স-৫৯’ নামের প্লেনটি।
নাসা বলেছে, এক্স-৫৯ প্লেনটির নকশা এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে তা শব্দের চেয়ে দ্রুত চললেও কোনো তীব্র ‘সনিক বুম’ বা শব্দবিস্ফোরণ তৈরি না করে বরং তীব্র গর্জনের বদলে এর থেকে কেবল ‘মৃদু শব্দ’ তৈরি হয়।
চলমান এ পরীক্ষামূলক ধাপে প্লেনটি ঠিক কতটুকু শব্দ করছে তা নির্ণয় ও প্রয়োজনে সেই শব্দকে কমিয়ে আনতে একে অন্য এক সাধারণ গবেষণা প্লেনের সঙ্গে আকাশে ওড়ানো হচ্ছে, যা সাধারণ সুপারসনিকের মতো তীব্র সনিক বুম তৈরি করে।
শুক্রবারের এক রোমাঞ্চকর পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে ‘এক্স-৫৯’ প্লেনটি ঘণ্টায় প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার ‘ম্যাক ১.৪’ গতিতে ছুটেছে এবং আকাশসীমার ৫৫ হাজার ফুট উচ্চতা স্পর্শ করেছে। এর আগে, ৫ জুনের ফ্লাইটে প্লেনটির গতিবেগ ছিল ম্যাক ১.১।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা বলেছে, আগের ফ্লাইটের তুলনায় এবারের পরীক্ষাটি ছিল ‘আরও গুরুত্বপূর্ণ ও বৈপ্লবিক এক ধাপ’। কারণ, এ ফ্লাইটে প্লেনটি এমন কিছু মূল লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পেরেছে, যা তাদের আসন্ন ‘কোয়েস্ট’ মিশনে হুবহু প্রয়োগ হবে।
কোয়েস্ট মিশন শুরু হতে এখনও কয়েক মাস বাকি। এ মিশনের আওতায় এক্স-৫৯ প্লেনটিকে জনবসতিপূর্ণ এলাকার ওপর দিয়ে ওড়ানো হবে, যাতে মাটিতে থাকা সাধারণ মানুষের কান পর্যন্ত পৌঁছানো মৃদু শব্দটির বিষয়ে তাদের সরাসরি প্রতিক্রিয়া বা মতামত জানা যায়।
তবে সেই মূল অভিযানে যাওয়ার আগে প্লেনটিকে ‘অ্যাকিউস্টিক ভ্যালিডেশন’ বা শব্দ তরঙ্গের কার্যকারিতা যাচাইকরণ ধাপের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
এ ধাপে গবেষক দলটি প্লেনটির সুপারসনিক শব্দতরঙ্গের মাত্রা নিখুঁতভাবে পরিমাপ করবেন, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায়, প্লেনটি সাধারণ কোনো তীব্র সনিক বুম বা শব্দবিস্ফোরণ ছাড়াই সফলভাবে শব্দের গতি পেরোতে পেরেছে।