Published : 16 Jun 2026, 08:09 PM
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস ও জালিয়াতি ঠেকাতে ভারতে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম।
‘পরীক্ষার স্বচ্ছতা’ ধরে রাখতে সরকার এ পদক্ষেপ নিলেও একে ‘অকার্যকর ও সাময়িক সমাধান’ বলে সমালোচনা করছেন প্রযুক্তি অধিকার কর্মীরা। তারা বলছেন, মূল দুর্নীতি বন্ধ না করে সাধারণ ব্যবহারকারীদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস প্রতিবেদনে লিখেছে, সম্প্রতি দেশটির মেডিকেল কলেজে ভর্তির প্রধান পরীক্ষার ফলাফল বাতিল করেছে সরকার।
এ বিষয়ে সরকার বলছে, পরীক্ষার আগেই টেলিগ্রাম অ্যাপে প্রশ্ন ও উত্তর ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। আবার নতুন করে এ পরীক্ষা হবে।
আগামী ২১ জুন হতে যাওয়া সেই পুনর্বাছাই পরীক্ষার স্বচ্ছতা ধরে রাখতে ২২ জুন পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত সরকার এ অ্যাপটি পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
টেলিগ্রামের সবচেয়ে বড় বাজার ভারত, যেখানে প্রায় ৮ কোটি ৪০ লাখ ব্যবহারকারী রয়েছেন, সেখানে অ্যাপটি বন্ধের সিদ্ধান্ত দুর্বল বা অদ্ভুত অজুহাত বলেই মনে হচ্ছে অনেকের কাছে।
তবে ঘটনার পেছনে আরও কারণ রয়েছে। প্রশ্ন ফাঁসের পাশাপাশি ভারতের প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা দেশটির এ পরীক্ষা ব্যবস্থাকে ‘ভেঙে পড়া ও দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে বর্ণনা করেছেন। এ অব্যবস্থাপনার বিষয়টিই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে।
আল জাজিরা’র প্রতিবেদনে ভারতের ‘সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন’ বা সিবিএসই কেলেঙ্কারির একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে।
গেল ৩ মে প্রায় ২২ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষার্থী নিট মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই বছরের পর বছর ধরে এ পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন।
এ বছর লাখ লাখ উত্তরপত্র আরও ভালোভাবে মূল্যায়নের জন্য সিবিএসই একটি ‘অন-স্ক্রিন মার্কিং’ বা খাতা দেখার ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবস্থা চালু করে। তবে এ ব্যবস্থার চুক্তিটি দেওয়া হয়েছিল বিতর্কিত এক কোম্পানিকে এবং প্রথম পরীক্ষার পর শিক্ষার্থীরা তাদের ফলাফলে বড় ধরনের গড়মিল ও অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছেন।
এক শিক্ষার্থী নিজের উত্তরপত্রের স্ক্যান কপি হাতে পেয়ে দেখেছেন সেটি আসলে তার নিজের খাতাই নয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ ওই শিক্ষার্থী লিখেছেন, “আমি পুরো একটা বছর মন দিয়ে পড়াশোনা করেছি। আর এখন আমি এটাই জানি না, আমার পদার্থবিজ্ঞানের আসল খাতাটি আদৌ দেখা হয়েছে কি না।”
এরপর একে একে আরও অভিযোগ আসতে শুরু করে ও অন্য এক শিক্ষার্থী খাতা দেখার এ পোর্টালের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার বিষয়টি ফাঁস করে দেন। তার দাবি, তিনি সহজেই সিস্টেমের ভেতরে ঢুকে পরীক্ষার নম্বর পর্যন্ত বদলে দিতে পেরেছিলেন।
শুক্রবার ভারত সরকারের ‘ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি’ বা এনটিএ এই পরীক্ষার ফলাফল বাতিল ঘোষণা করে বলেছে, তদন্তকারীরা স্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছেন, পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্রের বড় একটি অংশ টেলিগ্রামে ফাঁস ও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। ‘পেপার লিকড নিট’-এর মতো নামে খোলা বিভিন্ন টেলিগ্রাম চ্যানেলে অর্থের বিনিময়ে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করা গেছে।
তবে টেলিগ্রাম বন্ধের এ সিদ্ধান্তকে ‘সাময়িক বা জোড়াতালির সমাধান’ এবং পরীক্ষা জালিয়াতির বিরুদ্ধে ‘অযৌক্তিক’ পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করেছে ‘ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশন’।
সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, “টেলিগ্রাম বন্ধের সিদ্ধান্ত কেবল তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ও একেবারেই অকার্যকর, যেখানে প্রশ্ন ফাঁসের মূল প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন কারণের সমাধান না করে উল্টো সাধারণ ব্যবহারকারীদের এভাবে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।”