Published : 17 Jun 2026, 02:38 PM
প্যাকেটের খাবারের মতো আমাদের হাতের অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনটিরও নির্দিষ্ট এক্সপায়ারি ডেট বা মেয়াদ রয়েছে। এক্ষেত্রে যেদিন থেকে নির্মাতা কোম্পানি ফোনে নিরাপত্তা আপডেট দেওয়া বন্ধ করে দেয় সেদিন থেকেই বাড়ে হ্যাকিং ও ম্যালওয়্যারের ঝুঁকি।
অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের ‘এন্ড-অফ-লাইফ’ বা মেয়াদ শেষের তারিখ বলতে কী বোঝায় এবং ডিভাইসের ক্ষেত্রে এমনটা কখন ঘটবে তা কম ব্যবহারকারীই জানেন। এ মেয়াদ শেষ মানে কী এবং স্যামসাং, গুগল ও অন্যান্য কোম্পানি তাদের ডিভাইসগুলোকে কতদিন পর্যন্ত সাপোর্ট দেয় তা জানা জরুরি।
প্রযুুক্তি সংবাদের সাইট টেকঅ্যাডভাইজারের প্রতিবেদন থেকে স্মার্টফোনের এ ‘এন্ড-অফ-লাইফ’ বা মেয়াদ শেষের তারিখটি কবে এবং তা কীভাবে সহজে খুঁজে পাওয়া যাবে জেনে নেওয়া যাক–
মেয়াদ শেষের তারিখ বলতে কী বোঝায়?
আইফোনের মতো অ্যান্ড্রয়েডের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট বা আদর্শ আপডেট পলিসি নেই। গুগল মূল অপারেটিং সিস্টেমটি তৈরি করলেও একটি ডিভাইস কতদিন পর্যন্ত আপডেট পাবে তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে সেই ফোনটির নির্মাতা কোম্পানির ওপর, সেক্ষেত্রে ফোনটি স্যামসাং, শাওমি, ওয়ানপ্লাস বা অন্য যে কোনো ব্র্যান্ডই হোক না কেন।
ফোনের এন্ড-অফ-লাইফ বা মেয়াদ শেষের তারিখ হচ্ছে সেই সময়, যখন নির্মাতা কোম্পানিটি এতে নতুন কোনো আপডেট পাঠানো বন্ধ করে দেয়। এর মানে এই নয় যে আপডেট বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফোনটি অচল হয়ে যাবে।
তবে ফোনটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকি দিন দিন বাড়তে থাকবে, বিশেষ করে সেই ফোন দিয়ে অনলাইন ব্যাংকিং, কেনাকাটা বা কোনো সংবেদনশীল তথ্য আদান-প্রদানের বেলায়।
নির্মাতা কোম্পানি এসব ডিভাইসকে কতদিন সাপোর্ট দেয়?
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আপডেট দেওয়ার এ সময়সীমা বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে স্যামসাং ও গুগল পথ দেখিয়েছে এবং অন্যান্য নির্মাতারাও তাদের অনুসরণ করেছে, যার আংশিক কারণ ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ-এর প্রবর্তিত ‘ইকোডিজাইন ফর সাসটেইনএবল প্রোডাক্টস রেগুলেশন’ নামের আইন।
এ আইনটি ২০২৫ সালের জুন থেকে কার্যকর হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ডিভাইসের আপডেটের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করা হয়েছে।
২০২৫ সালের ২০ জুনের পর থেকে বাজারে আসা সব নতুন স্মার্টফোন মডেলের ক্ষেত্রে নির্মাতা কোম্পানিগুলো সেই মডেলটির উৎপাদন বা বিক্রি বন্ধের পর থেকে অন্তত পাঁচ বছর পর্যন্ত সফটওয়্যার আপডেট দিতে বাধ্য থাকবে।
ডিভাইসের সাপোর্ট কখন শেষ হবে তা যেভাবে জানবেন
প্রথমেই ফোনের ব্র্যান্ড, মডেলের নাম ও মডেল নম্বরটি জানা প্রয়োজন। এসব তথ্য নিশ্চিত জানা না থাকলে ফোনের সেটিংসে গিয়ে ‘অ্যাবাউট ফোন’ অপশনে গেলে ডিভাইসের পুরো মডেলের নাম পেয়ে যাবেন।
মডেলটি নিশ্চিত হওয়ার পর সুনির্দিষ্ট ‘এন্ড-অফ-লাইফ’ বা মেয়াদ শেষের তারিখ জানার জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস ‘এন্ডঅফলাইফডটডেট’ নামের ওয়েবসাইট।
এ ওয়েবসাইটের ‘ডিভাইসেস’ ট্যাবের অধীনে নির্মাতা কোম্পানি হিসেবে স্যামসাং, গুগল, ওয়ানপ্লাস ইত্যাদির একটি তালিকা দেখতে পাবেন। নির্দিষ্ট নির্মাতার ওপর ক্লিক করলেই সেখানে একটি টেবিল চলে আসবে, যেখানে প্রতিটি মডেলের পাশে ঠিক কোন তারিখ থেকে সিকিউরিটি আপডেট বন্ধ হয়ে যাবে তা উল্লেখ রয়েছে।
বিকল্প উপায় হিসেবে ইন্টারনেটে নিজের ফোনের মডেলের নামের সঙ্গে ‘এন্ড অফ সফটওয়্যার সাপোর্ট’ বা ‘আপডেট গ্যারান্টি’ লিখে সার্চ করতে পারেন। যেমন, ‘স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৬ এন্ড অফ সাপোর্ট’ বা ‘পিক্সেল ৮ প্রো সফটওয়্যার আপডেট আনটিল হোয়েন’।
এ ছাড়া, সাধারণ ধারণা পেতে ফোনের সেটিংস থেকে সর্বশেষ ‘সিকিউরিটি প্যাচ’-এর তারিখটি দেখে নিতে পারেন। বেশিরভাগ অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে অপশনটি সেটিংসের ‘অ্যাবাউট ফোন’-এর ‘অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন’ বা ‘সিকিউরিটি প্যাচ লেভেল’-এ পেয়ে যাবেন।
সেই তারিখটি যদি তিন থেকে ছয় মাসের বেশি পুরানো হয়ে থাকে তবে প্রাথমিক সংকেত যে, আপনার ডিভাইসটি হয়ত আর কোনো আপডেট বা সাপোর্ট পাচ্ছে না।
মেয়াদ শেষ হলে কী করা উচিত?
যে স্মার্টফোনটি আর কোনো আপডেট পাচ্ছে না সেটিকে যে এখনই ড্রয়ারে বন্দি করে ফেলে রাখতে হবে বিষয়টি এমন নয়। তবে এর সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ঝুঁকি ও কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা যায় সে সম্পর্কে আপনার সচেতন হওয়া উচিত।
আপডেট বন্ধ হওয়া ফোনটি দিয়ে অনলাইন ব্যাংকিং, কেনাকাটা, ইমেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার বা পাসওয়ার্ড ম্যানেজার অ্যাক্সেস করা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ যে নিরাপত্তা ত্রুটি বা লুপহোলগুলোর সমাধান আর করা হচ্ছে না সেগুলোকে কাজে লাগিয়ে ম্যালওয়্যার সহজেই আপনার ফোনে হানা দিতে পারে।
তবে ডেডিকেটেড মিডিয়া ডিভাইস হিসেবে, যেমন গান শোনা, ভিডিও দেখা, সাধারণ গেইম খেলা বা গাড়ির নেভিগেশন বা জিপিএস হিসেবে আপডেট ছাড়াও ফোনটি আরও কিছুদিন ব্যবহার করতে পারেন। তবে শর্ত হচ্ছে, এতে যেন কোনো সংবেদনশীল বা গোপন তথ্য না থাকে।
নতুন কোনো ডিভাইস কেনার সময় ব্যবহারকারীর বিশেষভাব নজর দেওয়া উচিত এর ‘আপডেট গ্যারান্টি’র ওপর। অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসগুলোর মধ্যে বর্তমানে গুগল পিক্সেল ও স্যামসাং গ্যালাক্সি’র ‘এস’ বা ‘জেড’ সিরিজের ডিভাইসগুলো সবচেয়ে দীর্ঘ, অর্থাৎ সাত বছর পর্যন্ত সাপোর্টের নিশ্চয়তা দিচ্ছে।