Published : 17 Jun 2026, 03:37 PM
শেয়ার বাজারে পা রাখার কেবল কয়েক দিনের মাথায় অ্যামাজনকে পেছনে ফেলে বিশ্বের পঞ্চম মূল্যবান কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে ‘ইলন মাস্কের’ স্পেসএক্স।
ছয় হাজার কোটি ডলারে এআইচালিত কোডিং অ্যাপ ‘কারসর’ কিনে নেওয়ার পরপরই এ মাইলফলক স্পর্শ করেছে কোম্পানিটি।
কোডিং টুল হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের অভাবনীয় সাফল্যকে কাজে লাগানোর লক্ষ্যেই স্পেসএক্স এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।
মাস্কের এআই কোম্পানি ‘এক্সএআই’-এর মূল কোম্পানি হচ্ছে স্পেসএক্স। এ চুক্তির ফলে এআই সিস্টেমের মাধ্যমে কোড লেখার ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা আরও বাড়িয়ে নিতে পারবে এক্সএআই। এরইমধ্যে এ ক্ষেত্রে ক্লড চ্যাটবটের নির্মাতা কোম্পানি অ্যানথ্রপিক দারুণ বাণিজ্যিক সাফল্য পেয়েছে।
রকেট কোম্পানি স্পেসএক্সের অধীনে আরও রয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স এবং স্যাটেলাইট নির্মাতা ও ইন্টারনেট পরিষেবা দেওয়া কোম্পানি স্টারলিংক। বর্তমানে স্টারলিংকই এই ব্যবসার একমাত্র লাভজনক অংশ।
পাবলিকলি লিস্টেড বা শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির মূল্যায়নের অন্যতম প্রধান মাপকাঠি হচ্ছে ‘মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন’ বা বাজার মূলধন। কারসর কিনে নেওয়ার খবরের পরপরই স্পেসএক্স বাজার মূলধনের দিক থেকে অ্যামাজনকে ছাড়িয়ে যায়।
মঙ্গলবার নাসডাক ইনডেক্সে লেনদেন শুরু হতেই স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম এক লাফে ১৩ শতাংশ বেড়েছে।
লেনদেনের একপর্যায়ে কোম্পানিটির বাজার মূল্য সর্বোচ্চ ২.৯৭ ট্রিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌঁছায়, যা অ্যামাজনের ২.৬৫ ট্রিলিয়ন ডলারকে ছাড়িয়ে স্পেসএক্সকে বিশ্বের পঞ্চম শীর্ষ মূল্যবান কোম্পানিতে পরিণত করেছে।
পরবর্তীতে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম কিছুটা কমে বাজার বন্ধ হওয়ার সময় আগের দিনের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি অবস্থায় দিন শেষ করে। ফলে কোম্পানিটির চূড়ান্ত বাজার মূল্য দাঁড়ায় ২.৬৬ ট্রিলিয়ন ডলার, যা মার্কিন ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনের চেয়ে সামান্য বেশি।
২০২৫ সালে স্পেসএক্স ১৮৭০ কোটি ডলার রাজস্ব আয় করলেও তাদের লোকসান হয়েছিল ৪৯০ কোটি ডলার। এর বিপরীতে অ্যামাজন ৭১ হাজার ৭০০ কোটি ডলার রাজস্ব ও ৭ হাজার ৮০০ কোটি ডলার মুনাফা করেছে।
শুক্রবার স্পেসএক্সের প্রতিটি শেয়ার ১৩৫ ডলার মূল্যে বাজারে ছাড়া হয় এবং এরপর থেকে এর শেয়ারের দাম প্রায় ৫০ শতাংশে বেড়েছে।
ফোর্বসের তথ্য অনুসারে, এ শেয়ার ছাড়ার ফলে স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মাস্ক ১.১ ট্রিলিয়ন ডলারের মালিক হয়ে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হয়েছেন। ৫৪ বছর বয়সী মাস্কের বর্তমান সম্পদের পরিমাণ এখন ১.৩ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি ডলার।
স্যান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক ‘অ্যানিস্ফিয়ার’-এর মালিকানাধীন অ্যাপ ‘কারসর’কে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে স্পেসএক্স গেল কয়েক মাস ধরেই চেষ্টা চালাচ্ছিল।
কোম্পানিটি বলেছে, তারা একটি চুক্তি নিশ্চিত করেছে যার আওতায় এ বছরের শেষদিকে ৬ হাজার কোটি ডলারে কারসরকে কিনে নেবে বা ১০ হাজার কোটি ডলারের বিনিময়ে পার্টনারশিপ গড়ে তুলবে।
এআইয়ের সাহায্যে কোডিং স্বয়ংক্রিয় করার মাধ্যমে যে কয়েকটি সিলিকন ভ্যালি স্টার্টআপ বিপুল সংখ্যক ডেভলপারকে আকৃষ্ট করেছে তাদের মধ্যে অন্যতম অ্যানিস্ফিয়ার। এ কারণেই তারা বাজারের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআইয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে।
তবে কম্পিউটিং পাওয়ার বা ডেটা প্রসেসিং সক্ষমতার অভাবের কারণে কারসরের প্রবৃদ্ধি কিছুটা ব্যাহত হচ্ছিল, যা এখন ডেটাসেন্টারের মালিক হিসেবে স্পেসএক্স সহজেই সরবরাহ করতে পারবে।
প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও’র জন্য জমা দেওয়া নথিতে স্পেসএক্স বলেছিল, কোডিং রিকোয়েস্ট ও ডিজাইন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তসহ ডেভলপারদের বিভিন্ন ডেটায় কারসরের যে প্রবেশাধিকার রয়েছে তা এক্সএআইয়ের গ্রক মডেলটিকে আরও উন্নত করতে সাহায্য করবে।
কোম্পানি দুটির মধ্যে এ চুক্তির আওতায় অ্যানিস্ফিয়ার’কে স্পেসএক্সের শেয়ারের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করা হবে এবং এতে স্পেসএক্সের আইপিও থেকে আসা কোনো তহবিল ব্যবহৃত হবে না। ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের মধ্যে এ লেনদেন সম্পন্ন হবে।
অ্যানিস্ফিয়ার কোম্পানিটির পেছনে ‘অ্যান্ড্রিসেন হোরোভিটজ’ ও ‘থ্রাইভ’-এর মতো সিলিকন ভ্যালির নামী ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টদের পাশাপাশি এনভিডিয়া ও গুগলের মতো বড় কোম্পানিরও বিনিয়োগ রয়েছে।