গ্রীষ্মের দাবদাহে প্রকৃতির রুক্ষতা ছাপিয়ে অপরূপ শোভা ছড়াচ্ছে সোনালী হলুদ রঙের সোনালু ফুল। সবুজ গাছ থেকে যেন হলুদ ঝরনা নেমে এসেছে। বাতাসে কিশোরীর কানের দুলের মতো দুলতে থাকা এ ফুল আকৃষ্ট করছে তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সি মানুষকে।
ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে ও সড়ক-মহাসড়ক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বনে, গ্রামীণ রাস্তার ধারে ছোট-বড় সোনালু গাছ দেখা যাচ্ছে।
প্রকৃতিকে নয়নাভিরাম রূপে সাজাতে এবং প্রকৃতি পরিবেশের শোভা বর্ধনে সোনালু গাছ সারিবদ্ধ ভাবে লাগানো হয়ে থাকে। কালের পরিক্রমায় এ গাছ হারিয়ে যেতে বসেছে প্রায়। খুব কম সংখ্যক গাছ চোখে পড়ে বর্তমানে।
জানা গেছে, সোনালু পাতাঝরা মাঝারি আকৃতির বৃক্ষ। এটি আট থেকে ৯ মিটার উঁচু হয়। হলুদ বরণ এ ফুল দেখতে যেমন আকর্ষণীয় তেমনি আছে তার বাহারি নামও। পরিচিত নামগুলো হলো সোনালু, সোনাইল, সোঁদাল, বান্দরলাঠি ইত্যাদি।
সোনালু ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম ক্যাসিয়া ফিসটুলা। পরিবার সিজালপিনিয়াসি। জন্মস্থান বাংলাদেশ ও ভারতসহ পূর্ব এশিয়া।
ফরিদপুর পুলিশ লাইনের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র অর্ক চক্রবর্ক্তী বলেন, ‘আমাদের প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য সোনালু ফুল। গাছটি অযত্ন-অবহেলায় বেড়ে ওঠায় কৃষক পর্যায়ে এর গুরুত্ব কম। বর্তমানে জেলায় গাছটি তেমন একটা চোখে পড়ে না।’
ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার ময়না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কালিপদ চক্র বর্ত্তী বলেন, ‘সাধারণত গ্রাম বাংলায় এটি মূলত সৌন্দর্য বর্ধনে রোপণ করা হয়। গ্রাম বাংলায় এই ফুলকে বাদর লাঠি গাছ বলেও ডাকা হয়। এই উদ্ভিদ বাংলাদেশে অনেক জাতের আছে। ফুলের জন্য বেশি খ্যাতি রয়েছে বলে অনেক জায়গায় এ গাছ লাগানো হয়। গাছের কাঠগুলো জ্বালানি কাজে ব্যবহার করা হয়।’
কেকে/এমএ