সবজির ঝুড়িতে পটল যেন এক অনন্য নাম। স্বাদে মৃদু, পুষ্টিগুণে ভরপুর আর রান্নায় বহুমুখী। ভাজি, দোলমা কিংবা ঝোলে, প্রতিটি পদেই পটল এনে দেয় আলাদা এক স্বাদ। গ্রীষ্ম থেকে বর্ষা, প্রায় সারা বছরই যার চাহিদা থাকে বাজারে। অথচ বিস্ময়করভাবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে এই জনপ্রিয় সবজিটির চাষ প্রায় নেই বললেই চলে।
ঝিনাইদহের শৈলকূপায় জন্ম নেওয়া আব্দুস শুক্কুর জীবনের নানা শূন্যতা পেরিয়ে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়ে সামনে এসেছেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির একজন পরিশ্রমী ও উদ্ভাবনী কৃষক হিসেবে পরিচিত।
উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের উত্তর ঘোপালঘাটা গ্রামের এই কৃষক প্রমাণ করেছেন- ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। ১৯৮৬ সালে তিনি ফটিকছড়ির লেলাং উত্তর ঘোপালঘাটায় এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। আজ তিনি ফটিকছড়িতে পটল চাষে একটি সম্ভাবনাময় ও অনুকরণীয় উদাহরণ গড়ে তুলেছেন।
মাত্র ৮ শতক জমিতে শুরু হয়েছিল আব্দুর শুক্কুরের পটল চাষের যাত্রা। লেলাং ইউনিয়নের মনাইছড়ি ছড়ার পাশের জমিতে গত বছরের নভেম্বর মাসে তিনি চাষ শুরু করেন। শুরুটা সহজ ছিল না; সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল উপযুক্ত চারা সংগ্রহ। স্থানীয়ভাবে চারা না পাওয়ায় তিনি নাটোর থেকে কাটিং এনে রোপণ করেন।
আব্দুর শুক্কুর বলেন, ‘চট্টগ্রামে পটলের চাষ প্রায় নেই বললেই চলে, কিন্তু বাজারে সারা বছরই এর চাহিদা থাকে। এই সুযোগটাই কাজে লাগাতে চেয়েছি। নাটোর থেকে কাটিং এনে চাষ শুরু করি। পটল চাষে নিয়মিত পরিচর্যা দরকার হয়, এতে ফলন খুব ভালো হয়েছে। বাজারে দামও ভালো, তাই কাজ করে বেশ সন্তুষ্ট লাগছে।’
প্রথমদিকে আবহাওয়া, মাটি এবং পরিচর্যা নিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় কৃষক আব্দুর শুক্কুরের। তবে তিনি হাল ছাড়েননি। নিয়মিত পরিচর্যা এবং উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে তার ক্ষেতে এখন মিলছে আশাব্যঞ্জক ফলন। সবুজ লতায় ভরে উঠেছে জমি, ঝুলছে তাজা পটল। যা ইতিমধ্যেই স্থানীয়দের নজর কেড়েছে।
স্থানীয় কৃষকরাও এখন তার ক্ষেত দেখতে আসছেন। অনেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছেন পটল চাষে যুক্ত হওয়ার জন্য। শুক্কুরের এই উদ্যোগ শুধু একটি ফসলের চাষ নয়, বরং একটি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে চট্টগ্রামের কৃষিতে।
সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করা গেলে চট্টগ্রামের মাটি ও আবহাওয়ায় পটল চাষ সম্ভব দাবী করে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, ফটিকছড়ির খিরাম ও লেলাং এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে পটল চাষ শুরু হলেও ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। আগ্রহী কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেন, ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলে পটল চাষ এতদিন তেমন ছিল না। তবে আব্দুর শুক্কুরের এই উদ্যোগ প্রমাণ করেছে, সঠিক পরিকল্পনা ও পরিচর্যা থাকলে এখানকার মাটি ও আবহাওয়ায় পটল চাষ সফলভাবে করা সম্ভব। তিনি একটি অনুকরণীয় উদাহরণ তৈরি করেছেন।’
আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দিচ্ছি। ভবিষ্যতে আরও কৃষক এগিয়ে এলে এই এলাকায় পটল চাষ সম্প্রসারণের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। এটি কৃষকদের জন্য নতুন আয়ের উৎস হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারে।
কেকে/ এমএস