প্রবাসে ঈদের উৎসবের রঙ ছড়ালো ‘সোনালী সন্ধ্যা’ তারকাদের গানে-নাচে মাতলো কুয়ালালামপুর
প্রবাস জীবনের ব্যস্ততা, কর্মচাপ আর স্বজনদের থেকে দূরে থাকার বেদনা কিছুক্ষণের জন্য ভুলে ঈদ আনন্দে একাকার হয়ে গেলেন মালয়েশিয়ায় বসবাসরত হাজারো বাংলাদেশি। কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত জমকালো মিউজিক্যাল কনসার্ট ‘সোনালী সন্ধ্যা’ যেন এক সন্ধ্যার জন্য প্রবাসীদের ফিরিয়ে নিয়ে গেল দেশের উৎসবমুখর পরিবেশে। জনপ্রিয় শিল্পীদের গান, তারকা অভিনেত্রীদের নৃত্য পরিবেশনা এবং বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে পুরো অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।
রোববার (২৪ মে ) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত কুয়ালালামপুরের মিনারা পিজিআরএম টাওয়ারে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ এই আয়োজন। ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য কনসার্টটির আয়োজন করে ‘এমএস গোল্ড’। অনুষ্ঠানস্থলে বিকেল থেকেই দর্শকদের ভিড় বাড়তে থাকে। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনদের নিয়ে প্রবাসীরা অংশ নেন এই উৎসবে।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিলেন দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী প্রীতম হাসান, জেফার এবং প্রতীক হাসান। একের পর এক জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে তারা দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন। শিল্পীদের সঙ্গে গলা মিলিয়ে গান গাইতে এবং মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায় দর্শকদের। প্রিয় শিল্পীদের সরাসরি পরিবেশনা উপভোগ করতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন উপস্থিত প্রবাসীরা।
গানের পাশাপাশি দর্শকদের বাড়তি আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের দুই জনপ্রিয় অভিনেত্রী পূজা চেরি ও তমা মির্জা। তাদের প্রাণবন্ত নৃত্য পরিবেশনা পুরো হলজুড়ে সৃষ্টি করে ভিন্নমাত্রার উচ্ছ্বাস। দর্শকদের করতালি ও উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।
পুরো অনুষ্ঠানটি সাবলীল ও প্রাণবন্তভাবে সঞ্চালনা করেন রাফসান ও তাবাসসুম প্রিয়াঙ্কা। শো ডিরেক্টর ছিলেন চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালক সাকিব সনেট। এছাড়া আধুনিক বিনোদনের আবহ আরও সমৃদ্ধ করতে ছিল ডিজে আভিলার বিশেষ লাইভ পারফরম্যান্স। অত্যাধুনিক আলো, সাউন্ড ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের সমন্বয়ে আয়োজনটি আন্তর্জাতিক মানের কনসার্টের আবহ তৈরি করে।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে বিভিন্ন স্পন্সর ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন আয়োজকরা। তারা জানান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এমন সাংস্কৃতিক আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ ছিল না ‘সোনালী সন্ধ্যা’। হলের বাইরে সাজানো হয়েছিল পিঠা, মিষ্টান্ন, ফুচকা, চটপটি এবং বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী বাংলা খাবারের স্টল। সেখানে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে দেশীয় খাবারের স্বাদ উপভোগ করতে দেখা যায় দর্শকদের। ফলে পুরো আয়োজনজুড়ে তৈরি হয় এক টুকরো বাংলাদেশের আবহ।
আয়োজকদের ভাষ্য, প্রবাসীদের মাঝে দেশীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও উৎসবের অনুভূতি ছড়িয়ে দেওয়া এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। তারা মনে করেন, এমন অনুষ্ঠান প্রবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও বন্ধন আরও দৃঢ় করতে সহায়তা করে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অনেক প্রবাসী জানান, কর্মব্যস্ত জীবনে এমন আয়োজন তাদের মানসিক প্রশান্তি দেয় এবং দেশের প্রতি ভালোবাসাকে আরও গভীর করে। তাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এমন বৃহৎ সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে প্রবাসে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও উৎসবের আবহ বজায় থাকবে।
এক সন্ধ্যার জন্য হলেও ‘সোনালী সন্ধ্যা’ প্রবাসীদের মনে ফিরিয়ে এনেছে দেশের ঈদ উৎসবের স্মৃতি। গান, নাচ, আনন্দ আর মিলনমেলার এই আয়োজন দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্মৃতিতে বিশেষ স্থান করে নেবে বলেই মনে করছেন অংশগ্রহণকারীরা।
সোনালী সন্ধ্যার মিডিয়া পার্টনার ছিল জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল এনটিভি।













কায়সার হামিদ হান্নান