হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় রুবিনা আক্তার (২৫) নামে এক নারীর মুখমণ্ডল এসিড দিয়ে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে। এতে ওই নারীর মুখমণ্ডল মারাত্মকভাবে ঝলসে গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত ৯টার দিকে উপজেলার বহুলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আহত রুবিনা সদর উপজেলার বহুলা এলাকার বাসিন্দা এবং আনন্দপুর গ্রামের উজ্জ্বল মিয়ার (২৮) সাবেক স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর আগে উজ্জ্বলের সঙ্গে রুবিনার বিয়ে হয়েছিল। তাদের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে, যারা বর্তমানে উজ্জ্বলের কাছে থাকে। তবে পারিবারিক নানা বিষয়ে মনোমালিন্য দেখা দেওয়ায় গত ৬ মাস আগে উজ্জ্বলকে ডিভোর্স (তালাক) দেন রুবিনা। তালাকের পর থেকেই উজ্জ্বল ক্ষিপ্ত হয়ে রুবিনার পিছু নেয়। বিভিন্ন সময়ে রাস্তাঘাটে যাতায়াতের পথে এবং কর্মস্থলে গিয়েও সে রুবিনাকে উত্যক্ত ও হুমকি দিত।বৃহস্পতিবার রাতে রুবিনা তার কর্মস্থল কোম্পানি থেকে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। রাত ৯টার দিকে তিনি বহুলা এলাকায় তার বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে, আগে থেকে অন্ধকারে উৎ পেতে থাকা উজ্জ্বল হঠাৎ তার পথ গতিরোধ করে এবং মুখে এসিড নিক্ষেপ করে।
এ সময় রুবিনার আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে উজ্জ্বল দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা মারাত্মক দগ্ধ অবস্থায় রুবিনাকে উদ্ধার করে প্রথমে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তার অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান।
হবিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদুল হক মুনশী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ অপরাধের আলামত সংগ্রহ করেছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত উজ্জ্বল পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।