আজ ১ জুন বাংলাদেশের অভিনয় জগতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রূপকার এবং বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর ৫২তম জন্মদিন এবং ১৯৭৪ সালের এই দিনে পাবনার সুজানগর উপজেলার কামারহাট গ্রামে জন্মগ্রহণ করা এই গুণী শিল্পী আজ কেবল বাংলাদেশে নন বরং ওপার বাংলা তথা সমগ্র বিশ্বমঞ্চে নিজের নিখুঁত অভিনয়শৈলী দিয়ে এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী স্থান করে নিয়েছেন।
চারুকলার আঙিনা থেকে থিয়েটার এবং তারপর ছোট পর্দা ও বড় পর্দায় তাঁর এই দীর্ঘ পথচলা বাংলা অভিনয় জগতের এক স্বর্ণালী ইতিহাস। গিয়াসউদ্দিন সেলিমের মনপুরা চলচ্চিত্রে সোনাই চরিত্রে তাঁর অবিনশ্বর অভিনয় কিংবা অমিতাভ রেজা চৌধুরীর আয়নাবাজি চলচ্চিত্রে শরাফত করিম আয়না নামের এক বহুরূপী চরিত্রের মাধ্যমে তিনি অভিনয়ের এমন এক পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেছেন যা দেশের সিনে-জগতে ইতিহাস তৈরি করে তাঁকে এনে দিয়েছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের গৌরব। এছাড়া মেজবাউর রহমান সুমনের হাওয়া চলচ্চিত্রে রহস্যময় ও কুচক্রী চান মাঝি চরিত্র এবং প্রখ্যাত ভারতীয় পরিচালক সৃজিত মুখার্জির পদাতিক চলচ্চিত্রে কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা মৃণাল সেনের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দুই বাংলার দর্শকদের তাক লাগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ওটিটি প্ল্যাটফর্মের কারাগার সিরিজে এক বাকহীন বন্দির চরিত্রে এবং তকদির সিরিজে ফ্রিজার ভ্যান চালকের ভূমিকায় অভিনয় করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুমুল প্রশংসিত হয়েছেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ফেরা তাঁর বিখ্যাত ডায়ালগ যেমন কারাগার সিরিজের তুমিও মানুষ আমিও মানুষ তফাৎ শুধু একটাই তুমি আছো বাইরে আমি আছি ভেতরে কিংবা হাওয়া চলচ্চিত্রের তুমি কি চান মাঝিরে চেনো নাই এবং আয়নাবাজির লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন সংলাপগুলো বাঙালি দর্শকের হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছে।
৫২ বছরে পদার্পণ করা এই মহান শিল্পীর আগামী দিনগুলো আরও সাফল্যমণ্ডিত ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হোক।