সিলেটে হাম উপসর্গে আরো তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সিলেট বিভাগে হাম ও হাম উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ জনে।
নিহত তিন শিশুর মধ্যে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে একজন ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে নতুন করে ল্যাব পরীক্ষায় একজনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ে হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরো ৫৬ জন।
বুধবার (১৭ জুন) এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল আলম।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া ৬ মাস বয়সী শিশু রাইয়ান সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা।
এছাড়া সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া ৫ মাস বয়সী তাউসিফ ইসলাম সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার এবং ৭ মাস বয়সী আমায়রা জান্নাত সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হাম ও উপসর্গে নিহত ৭২ জনের মধ্যে একজন ২২ বছর বয়সী নার্স এবং বাকি ৭১ জন শিশু। এর মধ্যে চারজনের হাম নিশ্চিত হলেও বাকিদের মৃত্যু হয়েছে হাম উপসর্গে।
মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩০ জন সুনামগঞ্জ জেলার, এরপর ২৭ জন সিলেটের, মৌলভীবাজারের নয়জন ও হবিগঞ্জের ছয়জন রয়েছে।
এদিকে সিলেট বিভাগে এখন পর্যন্ত ৩২৩ জন ল্যাব নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৭৮ জন সুনামগঞ্জ জেলার, সিলেটের ১০৫ জন, হবিগঞ্জের ২৪ জন ও মৌলভীবাজারের ১৬ জন রয়েছে।
বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে ২৮৪ জন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৯৪ জন ভর্তি রয়েছে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। এছাড়া ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৯১ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল হাসপাতালে ১০ জন, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে দু’জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ১৩ জন, পার্কভিউ মেডিক্যাল হাসপাতালে চারজন, সিলেট উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একজন, কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাতজন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৪০ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১২ জন ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে সাতজন ভর্তি রয়েছে।


