৬ মাসের শিশু বিএসএফের পুশইনের শিকার

মানবাধিকার লঙ্ঘন বলছেন স্থানীয়রা

গয়টাপাড়া বর্ডার অবজারভেশন পোস্টের (বিওপি) হাবিলদার মাসুদ রানা জানান, সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে যাতে কোনো অনুপ্রবেশ বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

রেজাউল করিম রেজা, কুড়িগ্রাম

Location :

Kurigram
নোম্যান্স ল্যান্ডে শিশুকে কোলে মায়ের আহাজারি
নোম্যান্স ল্যান্ডে শিশুকে কোলে মায়ের আহাজারি |নয়া দিগন্ত

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশইনের শিকার হয়েছেন ছয়জন বাংলাদেশী নাগরিক, যাদের মধ্যে রয়েছে এক নারী, দুই শিশু এবং মাত্র ছয় মাস বয়সী এক শিশু।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, রৌমারীর গয়টাপাড়া সীমান্তে প্রচণ্ড রোদে মাথার ওপর সামান্য প্লাস্টিক টাঙিয়ে শিশুকে কোলে নিয়ে অবস্থান করছেন এক দম্পতি। তাদের সাথে রয়েছে আরো দুই যুবক। টানা দুই দিন ধরে তারা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

পুশইনের শিকার ছয়জনকে ১০৬০ নম্বর আন্তর্জাতিক পিলার সংলগ্ন নোম্যান্স ল্যান্ডে রাখা হয়েছে। একদিকে ভারতের কাঁটাতারের বেড়া ও বিএসএফ ক্যাম্প।

অন্যদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে দূরত্বে খাল—এর মাঝেই তাদের অবস্থান। দু’দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী অস্ত্র হাতে পাহারা দিচ্ছে, যাতে তারা কোনো দেশের ভেতরে প্রবেশ করতে না পারেন।

স্থানীয়রা জানান, সীমান্তে অবস্থানরতদের জন্য নেই খাবার, পানি, গোসল বা স্যানিটেশনের ব্যবস্থা। মাঝে মধ্যে বিএসএফ কিছু খাবার দেয়, আর স্থানীয়রা বিস্কুট বা পানি পৌঁছে দেন। এভাবেই চলছে তাদের দিন। শিশুটিকে নিয়ে মায়ের আহাজারি হৃদয়বিদারক।

স্থানীয় মুস্তাফিজ বলেন, ‘ছয় মাসের শিশুর ওপর এমন অমানবিক আচরণ মেনে নেয়া যায় না। দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে।’

অন্যদিকে আবুল হোসেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

গণমাধ্যমকর্মী ওয়াহিদুজ্জামান তুহিন বলেন, ‘এটি স্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন। একটি শিশুকে রোদ-বৃষ্টিতে ফেলে রাখা সভ্য সমাজে অগ্রহণযোগ্য।’

জানা গেছে, গত রোববার সকালে গয়টাপাড়া ও ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ পুশইনের চেষ্টা চালায়। বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে তারা নোম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান নেয়। পরে পতাকা বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।

গয়টাপাড়া বর্ডার অবজারভেশন পোস্টের (বিওপি) হাবিলদার মাসুদ রানা জানান, সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে যাতে কোনো অনুপ্রবেশ বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

মানবাধিকার সচেতন মহল বলছে, নারী ও শিশুসহ এসব নাগরিকের মানবিক সঙ্কট নিরসনে দ্রুত কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।