চট্টগ্রামে শিশুধর্ষণ মামলায় ২৬ দিনে রায়, আসামির যাবজ্জীবন

আসামিপক্ষের আইনজীবী জিএম জাহেদ হোসেন জানান, রায়ে আমরা আসামির ফাঁসি দাবি করেছিলাম কিন্তু তার যাবজ্জীবন রায় হয়েছে। এতে আমরা সন্তুষ্ট নয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
আসামি মনির হোসেনকে আদালতে হাজির করা হচ্ছে
আসামি মনির হোসেনকে আদালতে হাজির করা হচ্ছে |ইন্টারনেট

চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের মামলার একমাত্র আসামি মো: মনির হোসেনকে (৩২) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বিচার শুরুর ২৬ দিনের মাথায় এ রায় ঘোষণা করা হয়।

আজ বুধবার ট্রায়াল গঠনের সপ্তম কার্যদিবসে চট্টগ্রাম শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা জুমা এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি মো: মনির হোসেন বাকলিয়া এলাকার একটি ডেকোরেটর দোকানের কর্মী এবং কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাসিন্দা। আদালত তাকে একই সাথে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় ওই শিশুকে ধর্ষণ করেন আসামি মনির।

সকালে পুলিশ প্রহরায় তাকে চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

ট্রায়াল গঠনের সপ্তম কার্যদিবসে মধ্যে এ রায় ঘোষণা করা হয়। দ্রুত তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। তবে আসামির ফাঁসি না হওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাহবুব-উল আলম চৌধুরী বলেন, গত ৪ জুন পুলিশ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। ৯ জুন আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। আজ রায়ে একমাত্র আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আসামিপক্ষের আইনজীবী জিএম জাহেদ হোসেন জানান, রায়ে আমরা আসামির ফাঁসি দাবি করেছিলাম কিন্তু তার যাবজ্জীবন রায় হয়েছে। এতে আমরা সন্তুষ্ট নয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।

এ ঘটনায় ৪ জুন আদালতে অভিযোগ পত্র দেয় পুলিশ। মামলায় মোট ১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ আদালত রায় দেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২১ মে বিকেলে সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে মনিরের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে আটক করে। অভিযুক্ত মনিরকে গ্রেফতার করে থানায় নেয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা মনিরকে তাদের হাতে তুলে দেয়ার দাবি জানিয়ে পুলিশকে ঘেরাও করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে আসামি মনিরকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এ ঘটনায় বিক্ষোব্ধ জনতা পুলিশের একটি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়।