চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সঙ্ঘটিত চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ পিংকী হত্যার আসামি প্রবাসী রাজন হোসেনকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে রাজধানী ঢাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে জীবননগর থানা পুলিশ।
গ্রেফতার রাজন হোসেন উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে। তিনি হত্যাকাণ্ডের দুই মাস আগে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে আসেন। হত্যার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
নিহত গৃহবধূ পিংকী ডুমুরিয়া গ্রামের প্রান্তিক কৃষক সানোয়ার হোসেনের স্বামী পরিত্যক্তা ও একাধিক বিবাহিতা নারী এবং দুই সন্তানের জননী।
দুই মাস আগে চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামে ঘুমন্ত অবস্থায় গৃহবধূ ববিতা খাতুন ওরফে পিংকীকে (২৭) এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন রাজন। পরে পরিবারের লোকজন তাকে জীবননগর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সেখান তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় পিংকী পুলিশের কাছে জবানবন্দি দেন যে, তাকে রাজন এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। এ সময় রাজন হোসেনকে সে একটি লাথিও মারে বলে জবানবন্দিতে জানা যায়। মূলত রাজন হোসেনের দেয়া অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় তাকে কুপিয়ে আহত করা হয়।
আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য মিন্টু রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অপরাধে প্রবাসফেরত রাজন হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা করেন নিহত পিংকীর মামা আনোয়ার হোসেন। মামলার পর থেকে রাজন হোসেন পলাতক ছিলেন। পুলিশ তাকে বুধবার দুপুরে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, প্রবাসফেরত যুবক রাজন হোসেন গৃহবধূ ববিতা খাতুন ওরফে পিংকী হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। রাজন হোসেন ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন। তাকে বুধবার সকালে ঢাকায় গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।


