দেশে প্রথমবারের মতো ‘ফ্রি ট্রেড জোন’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ : মন্ত্রিপরিষদ সচিব

সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে এখন থেকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এগুলো হলো ভ্যালু ফর মানি, রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত প্রভাব।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি |ইন্টারনেট

দেশে প্রথমবারের মতো সরকার ‘ফ্রি ট্রেড জোন’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

তিনি বলেছেন, চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) স্থাপনের অংশ হিসেবে দু’টি পৃথক স্থানে প্রায় ৬০০ একর জমিতে এ অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

একই সাথে রাশিয়া থেকে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির আওতায় ইউরিয়া সার আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

আজ বুধবার সচিবালয়ে সরকারি অর্থনৈতিক বিষয় ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মন্ত্রিপরিষদ সচিব এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, সভায় রাশিয়া থেকে জি-টু-জি ভিত্তিতে ইউরিয়া সার আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন স্থাপনের জন্য ল্যান্ড লিজ এগ্রিমেন্ট এবং একটি স্পেশাল পারপাস কোম্পানি (এসপিসি) গঠনের নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ফ্রি ট্রেড জোন প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাতারবাড়ি বন্দরের কাছাকাছি ৩০০ একর এবং চট্টগ্রাম বন্দরের নিকটবর্তী আরো ৩০০ একর জমিতে এ অঞ্চল গড়ে তোলা হবে।

নাসিমুল গনি বলেন, এ অঞ্চলে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর কোনো ধরনের শুল্ক বা কর আরোপ করা হবে না। ফলে আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ আরও আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হবে।

বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাবের আওতায় সৌদি আরব থেকে ১৯তম লটে ২৫ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি ১৫ হাজার মেট্রিক টন রক সালফার ও ব্রাইট ইয়েলো সালফার সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এছাড়া মোটরযান কর ও ফি অনলাইনে জমা দেয়ার কার্যক্রমে অতিরিক্ত সেবা প্রদানের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে অর্থ পরিশোধের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) অধীনে ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন সেতু, কালভার্ট ও রেগুলেটর নির্মাণের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

তবে হাওর এলাকায় উড়াল সড়ক নির্মাণ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব কস্ট-বেনিফিট অ্যানালাইসিস বা ব্যয়-সুবিধা বিশ্লেষণের জন্য আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

নাসিমুল গনি জানান, সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে এখন থেকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এগুলো হলো ভ্যালু ফর মানি, রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত প্রভাব।

তিনি বলেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে যথাযথ ডিউ ডিলিজেন্স নিশ্চিত করা হবে এবং প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি সুফল মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় এলএনজি ও তেল পরিবহনে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ফলে প্রয়োজন মেটাতে স্পট মার্কেট থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় জুন ও জুলাই মাসের প্রথম দিকের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কমলে দেশে মূল্য সমন্বয় করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সূত্র : ইউএনবি