অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙিনাকে চাষাবাদের আওতায় এনে সবজি, আদা-হলুদ ও ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনের মাধ্যমে গত পাঁচ বছরে প্রায় ২ হাজার ২১৪ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার ৯১০ টাকার আর্থিক অর্জন হয়েছে বলে দাবি করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর (ডিএই)।
একইসাথে প্রকল্পের আওতায় ৪ হাজার ৯৫৯ দশমিক ৬ হেক্টর অনাবাদি জমি সরাসরি চাষের আওতায় এসেছে এবং কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার ফলে আরো ১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমি আবাদে যুক্ত হয়েছে।
বুধবার রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্পের জাতীয় পর্যায়ের সমাপনী কর্মশালায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহাম্মদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো: সেলিম খান এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো: আবদুছ সালাম।
কর্মশালায় প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচাল ড. মো: আকরাম হোসেন চৌধুরী।
এছাড়া দেশের ৬৪ জেলার ৪৯২ উপজেলার ডিএই কর্মকর্তা, কৃষক প্রতিনিধি, পরিকল্পনা কমিশন, আইএমইডি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কর্মশালায় জানানো হয়, অনাবাদি জমির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। দেশের ৬৪ জেলার ৪৯২ উপজেলায় এ প্রকল্পের আওতায় ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৯০০টি পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন করা হয়েছে।
এছাড়া প্রকল্পের মাধ্যমে ৭ হাজার ৩৮০টি কচুজাতীয় সবজি চাষ প্রদর্শনী, ২০ হাজার ১৮৮টি ছায়াযুক্ত স্থানে বা বসতবাড়িতে আদা-হলুদ চাষ প্রদর্শনী, ৯৮৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুষ্টিবাগান, ৮ হাজার ৫৭০টি মাচায় সবজি চাষ প্রদর্শনী এবং ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৪৮৫টি পারিবারিক পুষ্টি বাগান রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনঃস্থাপন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে সবজি ও মসলা ফসলের ৫ লাখ ৩৭ হাজার ২২টি প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে।
পরিবেশ সংরক্ষণ, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ১ হাজার ৪২৬টি কমিউনিটি-ভিত্তিক ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন পিট স্থাপন করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
প্রকল্পের বিভিন্ন প্রদর্শনী, প্রশিক্ষণ ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ৬ লাখ ২১ হাজার ৭৫২ দশমিক ৭৫ টন শাকসবজি ও আদা-হলুদ উৎপাদিত হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২ হাজার ১৮১ কোটি ১৬ লাখ ৪০ হাজার ২৭০ টাকা। পাশাপাশি ২১ হাজার ৪২৬ দশমিক ৩৭২ টন জৈবসার ও কেঁচো উৎপাদিত হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ৩৩ কোটি ৩১ লাখ ১০ হাজার ৬৪০ টাকা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি সচিব বলেন, যুগোপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষির উন্নয়ন সম্ভব। এ প্রকল্প থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও সফল মডেল ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়ন, পুষ্টি নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরো বলেন, প্রকল্পের আওতায় কৃষক-কৃষাণী এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাদের পুষ্টিবিষয়ক প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। প্রকল্প এলাকার মানুষ যে পুষ্টিজ্ঞান অর্জন করেছে, তা বাস্তবে প্রয়োগে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর আরো নজর দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রকল্পটির অন্যতম বড় সাফল্য। পারিবারিক পুষ্টি বাগান ও ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীরা পরিবারের পুষ্টি ব্যবস্থাপনা, মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি এবং আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। একইসাথে পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কৃষকের আয় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনেও প্রকল্পটি কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
বক্তারা প্রকল্পের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে দেশের পুষ্টিঘাটতি পূরণে এ ধরনের কার্যক্রম আরো বিস্তৃত আকারে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেন।


