হরমুজ প্রণালী পুনরায় সচল হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাপকভাবে বাড়বে এবং ২০২৭ সাল নাগাদ বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের এক বিশাল উদ্বৃত্ত দেখা দেবে।
বুধবার (১৭ জুন) রয়টার্স জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তাদের মাসিক প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস দিয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে। এই চুক্তি অনুযায়ী ইরান তার কৌশলগত হরমুজ প্রণালী খুলে দেবে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে তাদের নৌ অবরোধ তুলে নেবে। এর মাধ্যমে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহ সঙ্কটের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
আইইএ-এর হিসাব অনুযায়ী, মার্কিন অবরোধ ও যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিদিন ১৪ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি তেল উৎপাদন আটকে ছিল।
সংস্থাটি জানিয়েছে, চুক্তিটি টিকে থাকলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল উৎপাদন ধাপে ধাপে আগের অবস্থায় ফিরবে। বিশেষ করে মার্কিন নৌ অবরোধ উঠে গেলে ইরানের তেল রফতানি আবারো পুরোদমে শুরু হতে পারবে।
২০২৭ সালে বাজারে ‘তেলের বন্যা’ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কারণ, সরবরাহ বাড়বে প্রতিদিন ৮ মিলিয়ন ব্যারেল, অথচ চাহিদা বাড়বে মাত্র ২ মিলিয়ন ব্যারেল।
ইতোমধ্যে জুনের শুরুর দিকেই ওমান সাগরে জাহাজে তেল যাতায়াত বৃদ্ধি পাওয়ায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের প্রবাহ মে মাসের দৈনিক ৯.৬ মিলিয়ন ব্যারেল থেকে বেড়ে ১২ মিলিয়ন ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে।
অবশ্য, মাইন অপসারণের দীর্ঘ প্রক্রিয়া ও কিছু রাজনৈতিক বাধার কারণে এই উত্তরণের পথে এখনো ঝুঁকি রয়েছে।
সূত্র : রয়টার্স


