ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের যে সমঝোতা স্মারক সই হতে যাচ্ছে, ইসরাইল যদি লেবাননে আর কোনো হামলা চালায় বা নতুন করে দখল করা এলাকাগুলোতে তাদের আগ্রাসন বজায় রাখে, তবে তা এই চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে।
ইরানের ইংরেজি চ্যানেল প্রেসটিভি জানিয়েছে, তেহরানে নিযুক্ত বিদেশী কূটনীতিকদের সাথে এক বৈঠকে মঙ্গলবার (১৬ জুন) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, এই সমঝোতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্তই হলো লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করা। ফলে লেবাননের ওপর আগ্রাসনের অবসান ঘটানো এই সমঝোতা স্মারকের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল মিলে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো উসকানি ছাড়াই নতুন করে আগ্রাসন শুরু করে। একই সাথে বৈরুতের সাথে সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে লেবাননেও হামলা জোরদার করে ইসরাইল। ইরান প্রথম থেকেই বলে আসছে, ওয়াশিংটনের সাথে যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি লেবাননসহ সব ফ্রন্টের জন্যই প্রযোজ্য হতে হবে। কারণ পুরো অঞ্চলে সামগ্রিকভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠা না হলে স্থিতিশীলতা আসবে না। ৭ এপ্রিল পর্যন্ত চলা এই মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পাল্টা আঘাত হানে এবং লেবাননে ইসরাইলের প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের দাঁতভাঙা জবাব দেয়।
গত রোববার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে যে, এই সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্ত হয়েছে এবং আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে সই হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেন, লেবাননের যুদ্ধ এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় লেবাননে জায়নবাদী শাসকদের আগ্রাসন যেহেতু ইরানের সাথে যুদ্ধের সাথে জড়িয়ে গেছে, তাই ইরান শুরু থেকেই লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টিকে ইরানের যুদ্ধ থামানোর প্রধান শর্ত হিসেবে দেখেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুদ্ধ শেষের মানে হলো দখলদারিত্বেরও অবসান। নতুন করে দখল করা লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি বাহিনী পুরোপুরি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত যুদ্ধ কোনোভাবেই শেষ হবে না।
এই সমঝোতা স্মারকের পক্ষ কারা, তা পরিষ্কার করে আরাগচি বলেন, আমাদের দৃষ্টিতে এই চুক্তির একপক্ষে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল, আর অন্যপক্ষে আছে ইরান এবং লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ। তেহরান সময় সোমবার সকালে এই সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পর যুদ্ধ সমাপ্তির ঘোষণা দেয়া হয়েছে, তবে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে শুক্রবার সই হওয়ার পর থেকে। চুক্তি সইয়ের পর পরই চূড়ান্ত একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে এই আলোচনাকে দুটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে যুদ্ধ বন্ধ করা, হরমুজ প্রণালী, ইরানের বন্দর ও জাহাজের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ নৌঅবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের আটকে থাকা সম্পদ মুক্তি এবং পুনর্গঠনের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যার ফলে এই সমঝোতা স্মারকটি তৈরি সম্ভব হলো। শুক্রবার চুক্তি সইয়ের পর আগামী ৬০ দিন ধরে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির জন্য আলোচনা চলবে। এই চূড়ান্ত চুক্তিতে পরমাণু ইস্যু এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গঠনমূলক ভূমিকা রাখায় পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
সূত্র: প্রেসটিভি


