ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর

পুলিশের আচরণে পরিবর্তন আসবে কবে

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষের মনোজগতে একধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। মানুষ এখন আর হাসিনার ফ্যাসিবাদী জামানার পুলিশের আচরণ দেখতে চায় না। তারই ধারাবাহিকতায় অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশ সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিল; কিন্তু পুলিশকে জনবান্ধব করার সেই উদ্যোগ কি ভেস্তে যাবে? পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করে পুলিশকে জনবান্ধব ও মানবিক পুলিশ হিসেবে গড়ে তোলা এখন অপরিহার্য।

নানা ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য দীর্ঘদিন থেকে পুলিশ ইমেজ সঙ্কটে ভুগছে। ঘুষ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদকবাণিজ্য, অপহরণ কিংবা অকারণে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করার মতো অপরাধের জন্য হাসিনার শাসনামলে পুলিশ সব সীমা অতিক্রম করেছিল। সে সময় পুলিশের শীর্ষ থেকে নিম্নস্তর পর্যন্ত সদস্যদের নৈতিক পদস্খলন হয়েছিল । চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর আশা করা হয়েছিল, পুলিশ সদস্যদের আচরণে পরিবর্তন আসবে। অবস্থা যে আগের মতোই আছে তার আলামত বারবার প্রকাশ হচ্ছে। গত শনিবার এমন একটি ঘটনার শিকার হয়েছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান।

তিনি ঢাকা থেকে বিমানে চট্টগ্রামে যাচ্ছিলেন। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে নেমে অটোরিকশা নিয়ে বাসায় যাওয়ার পথে পুলিশ তাকে আটক করে গলা ধাক্কা দিয়ে তাদের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করে। এ সময় নাঈম পুলিশকে নিজের পরিচয় দিলেও খুলশি থানার উপ-পরিদর্শক ও তার সাথে থাকা অন্য সদস্যরা তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। পরে থানায় নিয়ে ওসির রুমে আরেক দফা তাকে হেনস্তা করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য- তাদের কাছে থাকা স্বর্ণ চোরাচালানের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা এই অভিযান চালায়। কিন্তু থানায় আসার পর তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে দুঃখ প্রকাশ করে।

প্রশ্ন হলো- একজন ক্রিকেটার পুলিশকে তার নিজের পরিচয় দেয়ার পরও কেন মারধর করল? কেন থানায় এনে তাকে হেনস্তা করা হলো? পুলিশের কাছে একজন পরিচিত ক্রিকেটারের যদি এ অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের সাথে পুলিশ কেমন আচরণ করে তা সহজেই অনুমেয়। পুলিশের এমন ঘটনা নতুন নয়; বরং নাঈম হাসানের সাথে পুলিশ যে অশোভন আচরণ করেছে নিয়মিতই তারা এমন আচরণ করে! প্রশ্ন হচ্ছে- পুলিশের এমন আচরণের শেষ কোথায়? এ ধরনের ঘটনার পর এর সাথে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যকে থানা থেকে প্রত্যাহার কিংবা বড়জোর চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করতে দেখি। উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না। তাই একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হলে পুলিশের বিরুদ্ধে তার প্রতিকার হয় না। তাদের বিরুদ্ধে যা ইচ্ছা তাই করা যায়, এমন ধারণা থেকে এমনটি হয়। এমন পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে হলে পুলিশের শীর্ষ পর্যায় থেকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিতে হবে। অপরাধ দমনের পাশাপাশি পুলিশের আচরণগত পরিবর্তনের বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষের মনোজগতে একধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। মানুষ এখন আর হাসিনার ফ্যাসিবাদী জামানার পুলিশের আচরণ দেখতে চায় না। তারই ধারাবাহিকতায় অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশ সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিল; কিন্তু পুলিশকে জনবান্ধব করার সেই উদ্যোগ কি ভেস্তে যাবে? পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করে পুলিশকে জনবান্ধব ও মানবিক পুলিশ হিসেবে গড়ে তোলা এখন অপরিহার্য।