বেআইনি তৎপরতা চালিয়ে সীমান্তে ভারত উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করে রেখেছে। সীমানারেখা না মেনে প্রাচীর নির্মাণ, পুশইন এবং সীমান্তে বাংলাদেশীদের ওপর হামলা নিত্যকার চিত্র। এর মধ্যে বরাবরের মতো দুই দেশের সীমান্ত সম্মেলন হয়েছে। যেখানে বিজিবি ও বিএসএফ শীর্ষ নেতৃত্ব মিলিত হয়। সম্মেলন শেষে যৌথ বিবৃতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর উল্লেখ নেই। সীমান্তে বাস্তবে ভারত যে আচরণ করে বিবৃতিতে তা অনুপস্থিত। দেশটি অব্যাহতভাবে জোরজবরদস্তির নীতি জারি রেখেছে। বৈরিতার নীতি চর্চা করে কাগজে কলমে বন্ধুত্বের বাণী দেয়। এ দিয়ে প্রকৃত অবস্থা আড়াল করতে চায়।
এবারের বিজিবি-বিএসএফ সম্মেলন নিয়ে একধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কার্যত দু’দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর ফি বছর অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠক প্রহসনে পরিণত হয়েছে। এ সম্মেলনে বাংলাদেশের স্বার্থ বরাবর উপেক্ষিত থাকছে। প্রথমত, আলোচনার টেবিলে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ইস্যুগুলো অনেকগুলো বাদ পড়ে যায়। লক্ষণীয়, জীবন-মরণ সমস্যা সীমান্ত হত্যা নিয়ে একই প্রতিশ্রুতি ‘আর কোনো প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হবে না’ বলা হয়। সীমান্ত হত্যার পরিসংখ্যান প্রমাণ করে, এগুলো শুধু ভারতের মুখের কথা। তাই বলা অসঙ্গত নয় যে, বারবার একই প্রতিশ্রুতি শুনতে এই ধরনের সম্মেলনে উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা আছে কি?
এবার যৌথ বিবৃতিতে সীমান্ত হত্যাকে ভারত স্বীকারই করেনি। সম্প্রতি আরো একটি বিষয় গুরুতর হয়ে উঠছেÑ পুশইন। নিরীহ মানুষকে ধরে এনে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এতে মানবেতর পরিস্থিতির উদ্ভব হচ্ছে। সীমান্তের শূন্যরেখায় উন্মুক্ত প্রান্তরে রোদ-বৃষ্টির মধ্যে এসব বনি আদম দিনাতিপাত করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের খাবার নেই, পানি নেই। কঠিন আবহাওয়ায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তারপরও অব্যাহতভাবে অমানবিক পুশইন চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। যৌথ বিবৃতিতে পুশইনেরও কোনো উল্লেখ নেই। উভয় পক্ষের সম্মতি ছাড়া যৌথ বিবৃতি প্রকাশ হওয়ার কথা নয়। যদিও বিজিবি এই বিবৃতি প্রকাশ করেনি।
গণমাধ্যমের খবর, বিজিবি প্রধান সম্মেলনের বাইরে ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। ওই বৈঠকের কোনো খবর তখন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি। বাংলাদেশের স্বার্থ যেখানে উপেক্ষিত হচ্ছে, সেখানে সাইডলাইনে এমন বৈঠকের কী প্রয়োজন আছে? তা আবার অপ্রকাশিত রাখার কী কারণ থাকতে পারে? একটি বাহিনী প্রধানের এই আচরণ দেশে ভুলবোঝাবুঝি তৈরি করতে পারে। এ ব্যাপারে বিজিবির শতভাত স্বচ্ছতা অবলম্বন করা দরকার।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পৃথিবীর দীর্ঘ সীমান্তগুলোর একটি। দু’দেশের প্রয়োজনে সীমান্ত বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সম্মেলন। বাস্তবে দেখা যায়, এ সম্মেলন থেকে বাংলাদেশের অর্জন প্রায় শূন্য। এতে বাংলাদেশের আপত্তিকে গুরুত্ব দেয়া হয় না। অন্যান্য বিষয়ের মতো সীমান্ত নিয়েও ভারত একতরফা পছন্দ চাপিয়ে দেয়। এ ক্ষেত্রে বিজিবি যেন বিএসএফের চাওয়াই পূরণ করে। মনে রাখা আবশ্যক, জনগণের অর্থে বিজিবি পরিচালিত হয়। তাই যেকোনো মূল্যে দেশের স্বার্থ রক্ষা করাই হলো এই বাহিনীর দায়িত্ব ও কর্তব্য।


