কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে

এই প্রশ্ন এখন দেশবাসী প্রত্যেক সচেতন মানুষের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। যদি ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিকদেরই জীবনের নিরাপত্তা না থাকে তাহলে সাধারণের কী অবস্থা?

সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে দেশবাসী যখন উদ্বিগ্ন ঠিক সে সময় গত শনিবার হত্যার শিকার হলেন যুবদলের এক নেতা। নিজ দলের সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেছে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে।

গত শনিবার দুপুরে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজার এলাকায় অস্ত্রধারীরা গুলি করে মাসুদকে হত্যা করে। এ ঘটনায় রোববার পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি।

তবে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অস্ত্রধারীদের শনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশ তাদের পরিচয় প্রকাশ না করলেও গণমাধ্যমে প্রত্যেকের পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে। বলা হয়েছে, খুনিরা চট্টগ্রামের ত্রাস হিসেবে পরিচিত বড় সাজ্জাদ বাহিনীর অনুগত রায়হান বাহিনীর সদস্য। রায়হান স্থানীয় বিএনপি এমপির অনুগত।

হত্যার কারণ এখনো অনুদ্ঘাটিত। তবে স্থানীয় জনগণ ও পুলিশ সূত্রে পাওয়া তথ্যে খুনের সম্ভাব্য কারণ অস্পষ্ট নয়। হত্যার কারণ হতে পারে বালু তোলার ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ এবং আধিপত্যের বিরোধ। আগামী ইউপি নির্বাচনে মাসুদ প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। তাই পথের কাঁটা ভেবে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

হত্যার কারণ তদন্তে জানা যাবে। কিন্তু সেটি মুখ্য বিষয় নয়। মুখ্য হলো, রাউজানের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। খুনাখুনির পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, রাউজান ভয়াবহ সন্ত্রাসকবলিত। থানা পুলিশের তথ্যে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত রাউজানে রাজনৈতিক হানাহানি ও বিভিন্ন বিরোধে অন্তত ২৫টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১৮টিই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। একই সময়ের মধ্যে গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে শতাধিক। এসব ঘটনায় গুলিবিদ্ধসহ আহত হন সাড়ে তিন শ’র বেশি মানুষ।

এর অর্থ হলো, ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর রাউজানে আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু নেই। নিহতের বড় ভাই নিজামুল হক চৌধুরী তপনের বক্তব্যে সেটি স্পষ্ট। একটি জাতীয় দৈনিককে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। মিথ্যা মামলায় আমার ভাই জেলে গেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ আমার ভাইকে হত্যা করেনি। আজ দলের সুসময়ে তাকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হলো। কার কাছে বিচার চাইব?

এই প্রশ্ন এখন দেশবাসী প্রত্যেক সচেতন মানুষের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। যদি ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিকদেরই জীবনের নিরাপত্তা না থাকে তাহলে সাধারণের কী অবস্থা?

তবে রাউজানের বিষয়টি ভিন্ন দিক থেকে দেখার অবকাশ আছে।

রাউজানের পাহাড়ি এলাকা সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য। পাহাড়তলী, কদলপুর, রাউজান সদর ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী যত খুন, সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয়েছে, তার বেশির ভাগ ঘটনায় পাহাড় থেকে আসা সন্ত্রাসীরা জড়িত। তারা ঘটনা ঘটিয়ে আবার পাহাড়ের গোপন আস্তানায় ফিরে যায়। এক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ থেকে যায়।

মাসুদের খুনিদের গ্রেফতার করে শাস্তি দেয়া হলেই যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে এমন নয়। এজন্য পুরো রাউজানের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান চালাতে হবে। যারা সমাজবিরোধীদের লালন-পালন করেন তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

বিএনপি সরকার কি পারবে সারা দেশে এমন কঠোর পদক্ষেপ নিতে?