বেনজীরের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতির মামলার নথি হস্তান্তর

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

দুবাইয়ে গ্রেফতার সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতির মামলার নথিপত্র এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করার সব কাগজপত্র ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইংরেজি ও আরবি ভাষায় দুই ধরনের প্রত্যর্পণ প্রস্তাবনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা দুবাইয়ে পাঠানো হবে। গতকাল মঙ্গলবার দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো: আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বেনজীরের বিরুদ্ধে থাকা দুদকের দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিং, পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলা ছাড়াও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) বেশ কয়েকটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা রয়েছে।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম বলেন, বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেফতার হওয়ার পর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) তদন্ত কর্মকর্তাসহ একটি বিশেষ টিম ইংরেজি ও আরবি ভাষায় লেখা প্রত্যর্পণ প্রস্তাবনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। যা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুবাইয়ে পাঠানো হবে। এ ছাড়া, দুদক টিম আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতও নিয়েছে।

প্রসঙ্গত, নিয়ম অনুযায়ী বিদেশে আসামি গ্রেফতার হওয়ার পর তাকে সংশ্লিষ্ট দেশে ফেরাতে তদন্তকারী সংস্থা বা আদালত কর্তৃক গ্রেফতারি পরোয়ানা, এজাহার, অভিযোগপত্র এবং অপরাধের বিস্তারিত বিবরণ সংযুক্ত করে প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণ প্রস্তাব অনুমোদন করার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা ইন্টারপোলের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোতে পাঠানো হয়।

পুলিশ বিভাগের একটি বিশেষ টিম দুদকের তদন্ত কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন বলে জানা গেছে। দুবাইতে গ্রেফতার হওয়া বেনজীর আহমেদের মামলা ও আদালতের আদেশ সংক্রান্ত সব নথিপত্র তৈরি করে দুদক টিম।

দুর্নীতি মামলার আসামি আওয়ামী লীগ সরকার আমলের বহুল আলোচিত ও সমালোচিত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের গ্রেফতার হওয়ার বিষয়টি জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আবুধাবির ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)। যেখান থেকে বাংলাদেশের এনসিবিকে চিঠি দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ওই চিঠিতে এনসিবি আবুধাবি জানিয়েছে, ইউএইর ‘ফৌজদারি বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচারিক সহযোগিতাসংক্রান্ত’ ফেডারেল আইন ৩৯/২০০৬-এর ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির প্রত্যর্পণ চেয়ে বাংলাদেশকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক লিখিত আবেদন পাঠাতে হবে।

২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ‘রেড নোটিশ’ জারি করে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইন্টারপোল)। দুর্নীতির দুই মামলার তদন্তকালে আদালতের নির্দেশনায় ইন্টারপোলে রেড নোটিশ ইস্যুর জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিল দুদক।

মামলার মধ্যে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ১২ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ ও সম্পদের তথ্য গোপনের মামলা রয়েছে। ওই মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এই মামলার বাদি দুদক উপপরিচালক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিনের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এরই ধারাবাহিকতায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ ইস্যু করা হয়।