কাঁঠাল অনেকের প্রিয় ফল হলেও এর বীজ ফেলে দেন। কিন্তু কাঁঠালের মতো এর বীজও পুষ্টিগুণে ভরপুর। এতে আছে প্রোটিন, ফাইবার, বি-ভিটামিন, ভিটামিন এ, আয়রন, ক্যালসিয়াম, কপার, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং জিঙ্ক। এই বীজ খেলে শরীরে নানা ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রায় ১০০ গ্রামের একটি বীজে চার গ্রাম প্রোটিন এবং জিরো ফ্যাট রয়েছে।
পুষ্টিবিদদের মতে, কাঁঠালের বীজের মধ্যে থাকা প্রোটিন শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, এই প্রোটিনের কারণে মাংসপেশিও মজবুত হয়। মাংসপেশি শক্তিশালী করতে চাইলে সাপ্লিমেন্টের পরিবর্তে কাঁঠালের বীজ খেতে পারেন। এ ছাড়া বদহজমের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কাঁঠালের বীজ খেতে পারেন। এতে থাকা উচ্চ পরিমাণের ফাইবার কোলেস্টোরলের মাত্রা কমাতে এবং হজম ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দূর করতেও উপকারী এটি। সেক্ষেত্রে কাঁঠালের বীজ শুকনো করে গুঁড়ো করে প্রতিদিন খেতে পারেন।
কাঁঠালের বীজে থাকা এই ফাইবার রক্ত ধমণী থেকে কার্বোহাইড্রেট শুষে নেয়, যার ফলে শরীরে শর্করার মাত্রা বজায় থাকে। যারা ডায়াবেটিসের রোগীরা খাদ্যতালিকায় এই বীজটি রাখতে পারেন। কাঁঠালের বীজে থাকা আয়রন রক্তাল্পতা এবং যেকোনো ধরনের রক্তজনিত সমস্যার হাত থেকে রক্ষা করে।
কাঁঠালের বীজে থাকা ভিটামিন এ চোখের জ্যোতি বাড়াতে সাহায্য করে। এই বীজ ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যকেও উন্নত করতে ভূমিকা রাখে। এই বীজে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের কুঁচকানো ভাব, দাগ ইত্যাদি দূর করতে সাহায্য করে। এর পাশাপাশি এতে থাকা প্রোটিন ও আয়রন চুলের স্বাস্থ্যকে উন্নত করে।
কীভাবে খাবেন : কাঁঠালের বীজ কীভাবে খাবেন সেটা জানাও জরুরি। চাইলে এই বীজ সিদ্ধ করে সালাদ হিসেবে খেতে পারেন। কাঁঠালের বীজ দিয়ে স্মুদি বা মিল্কশেক বানিয়েও খাওয়া যায়। চাইলে কাঁঠালের বীজকে গুঁড়ো করে যেকোনো খাবারের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন। প্রোটিন ও ফাইবারের বাড়তি জোগান পেতে তরকারি ও অল্প তেল দিয়ে হালকা করেও ভেজে খেতে পারেন কাঁঠালের বীজ। ইন্টারনেট।


