ইরানকে রুখে ড্রতেই আটকা নিউজিল্যান্ড

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক নিউ ইয়র্ক থেকে

ওশেনিয়া অঞ্চলের দেশ নিউজিলান্ড। প্রশান্ত মহাসাগরের ওই এলাকায় ব্যাপক পরিচিত এবং জনপ্রিয় খেলা রাগবি। সেই অঞ্চল থেকে এবার বিশ্বকাপের প্রতিনিধি তাসমান সাগরের তীরবর্তী দেশ নিউজিলান্ড। তবে এখন পর্যন্ত দলটি বিশ্বকাপে কোনো জয়ের দেখা পায়নি। সে সাথে দুই বিশ্বকাপ মিলে টানা চার খেলায় ড্র করে অনন্য নজির স্থাপন করেছে। গতকাল তারা ২-২ গোলে ড্র করে ইরানের সাথে।

নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিল ইরান। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধের কারণে মার্কিন মুল্লুকে এসে তাদের বিশ্বকাপ খেলাটা অনিশ্চিতই ছিল। ভিসা পায়নি দলের কর্মকর্তারা। এর পরও খেলার সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা নিয়ে নানা শর্ত। ম্যাচের আগে দিন মেক্সিকো থেকে এসে খেলা শেষ করেই তাদের বের হয়ে যেতে হবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। এই কঠিন বাধা ডিঙিয়েও অবশ্য জয়ে বিশ্বকাপ শুরু করতে পারেনি ইরানিরা।

ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ২০ তম অবস্থানে ইরান। আর নিউজিল্যান্ড আছে ৮৫তে। এ নিয়ে দশমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলছে ইরান। আর নিউজিল্যান্ড তৃতীয়বার। ম্যাচ শুরু হওয়ার আগেই বিব্রতক অবস্থার মুখে পড়তে হয় ইরান দলকে। মার্কিন সমর্থক ইরানিরা ইরানের বর্তমান জাতীয় পতাকা সাথে আনেনি। তারা বিপ্লব পূর্ববর্তী পতাকা নিয়ে আসে। আর জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর সময় পেছনে ঘুরে দাঁড়ায়। অবশ্য খেলা শুরু হলে সবাই ইরান দলকেই সমর্থন দিতে থাকে। উল্লেখ্য, ইরানের বর্তমান সরকারের পক্ষের সমর্থকরাও মাঠে এসেছিলেন বর্তমান পতাকা হতে নিয়ে। তবে সব পূর্ণতা পেত দল জিতলে।

১৯৮২ সালে নিউজিল্যান্ডের বিশ্বকাপ ফুটবলে অভিষেক। সেবার তারা তিন ম্যাচের প্রতিটিতেই হারের লজ্জা নেয়। স্কটল্যান্ডের কাছে ২-৫, সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে ০-৩ ও ব্রাজিলের কাছে ০-৪ গোলে হেরে ছিটকে পড়ে। ওশেনিয়া অঞ্চল থেতে অস্ট্রেলিয়া বেরিয়ে যোগ দেয় এএফসিতে। এরপর অল হোয়াইটস খ্যাত নিউজিলান্ড ফুটবল দলের বিশ্বকাপে খেলার রাস্তাটা প্রশস্ত হয়। তবে প্লে-অফে আটকা পড়তে হতো। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ফের তাদের ফেরা। তবে সে আসরে তারা কোনো ম্যাচেই জিততে পারেনি। আবার তাদের কোনো দলও পরাাজিত করতে সক্ষম হয়নি। মানে তিন খেলাতেই ড্র। ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরলেও বের হতে পারেনি ড্রয়ের বৃত্ত থেকে। গতকাল তারা ২-২ গোলে ড্র করেছে সাবেক এশিয়া চ্যাম্পিয়ন ইরানের সাথে। এলিজাজ জাস্টের জোড়া গোলেই তাদের এই হার এড়ানো ড্র। যদিও নিউজিল্যান্ডই প্রথম লিড নিয়েছিল। এরপর ইরানের ২-১ এ এগিয়ে যাওয়া।

২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড প্রথম ম্যাচে স্লোভাকিয়ার সাথে ১-১-এ পয়েন্ট ভাগ করে। পরের ম্যাচে তারা ১-১ এ রুখে দেয় ২০০৬ এর বিশ্বকাপ জয়ী ইতালিকে। এরপর শেষটা হয় দক্ষিণ আমেরিকান দেশ প্যারাগুয়ের সাথে গোলশূন্যতে ড্র করে। সে বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডই ছিল একমাত্র অপরাজিত দল। অথচ কোনো ম্যাচে না হেরেও গ্রুপ পর্ব থেকে তাদের বিদায় নিতে হয়েছিল।

লস অ্যাঞ্জেলেসের ইনজিউড স্টেডিয়ামে ‘জি’ গ্রুপের এই ম্যাচের ৭ মিনিট বয়সেই বিস্ময়ের ঘোরে পড়ে যায় ইরান। এলিজা জাস্টের গোলে এগিয়ে যায় নিউজিলান্ড। ক্রিস উডের কাছ থেকে বল পেয়ে ডান পায়ের ভলিতে বল জালে পাঠান এলিজা জাস্ট। ইরান অবশ্য ম্যাচে দাপটের সাথেই খেলছিল। সেই ধারাক্রমে ৩২ মিনিটে রামিন রেজাইন ডান পায়ের সুইং করানো ভলিতে সমতা আনেন। এরপর ৫৫ মিনিটে ফের এলিজা জাস্টের চমক। ইরানি ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে দ্বিতীয় গোল করেন ডান পায়ের শটে। দুই গোলের ক্ষেত্রেই জোগানদাতা ক্রিস উড। প্রথমার্ধে ইরানের একটি গোল অফসাইডে বাতিল হয়। দু’টি হাফ চান্সও জালে যায়নি। এই অবস্থায় ফের পিছিয়ে পড়ে সমতা আনতে মরিয়া হয়ে উঠে এশিয়ার দেশটি। ৬৪ মিনিটে মোহাম্মদ মহিবির হেডে স্বস্তি। ডান দিক থেকে আসা ক্রসে হেড করে নিউজিল্যান্ডের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন মহিবি। বল পোস্টে লেগে গোললাইন অতিক্রম করে। প্রথমার্ধে এই মহিবির শট নিউজিল্যান্ডের পোস্টে প্রতিহত হয়েছিল।

ম্যাচ শেষে ইরানের কোচ আমের ঘালেনেউই ডাগ আউটে বসে থাকলেও ফুটবলাররা গ্যালারির দিকে যান দর্শকদের সাথে শুভেচ্ছাবিনিময় করতে।