খরচের চাপে দিশেহারা পাটচাষিরা

Printed Edition
খরচের চাপে দিশেহারা পাটচাষিরা
খরচের চাপে দিশেহারা পাটচাষিরা

নূরুল ইসলাম চাটমোহর (পাবনা)

পাবনার চাটমোহর উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ এখন সোনালি আঁশের সবুজ সমারোহে ভরপুর। দিগন্তজোড়া মাঠজুড়ে চাষ পাট। চলতি মৌসুমে উপজেলার পৌরসভাসহ ১১টি ইউনিয়নের অধিকাংশ জমিতেই পাটের আবাদ হয়েছে, যা এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এ বছর চাটমোহরে আট হাজার ৯৪১ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ বেশি। অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকায় বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, কৃষকেরা পাটক্ষেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে এই আশার আড়ালেই রয়েছে দুশ্চিন্তার কালো ছায়া। মূলত বাড়তি উৎপাদন খরচের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাটমোহরের কৃষকেরা।

উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের কৃষি উদ্যোক্তা নজরুল ইসলাম বলেন, গাছ ভালো হয়েছে, ফলনের আশা আছে। কিন্তু খরচ যেভাবে বেড়েছে, তাতে লাভ নিয়ে শঙ্কা কাজ করছে। বিশেষ করে তেলের দাম বাড়ায় সেচ খরচ অনেক বেড়েছে। বাজারে সঠিক দাম না পেলে আমাদের বিপদে পড়তে হবে। ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল আজিজ জানান, আগে এক বিঘা জমিতে পাট চাষে যেখানে এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকা খরচ হতো, এখন শ্রমিকের মজুরি, সার ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধির কারণে তা বেড়ে দুই হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সেচ ব্যয়কে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এর সাথে যোগ হয়েছে বাজারদরের অনিশ্চয়তা।

উৎপাদন খরচের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় চাষিরা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কুন্তলা ঘোষ বলেন, গত বছর ভালো দাম পাওয়ায় এবারো চাষ বেড়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে।